দরজায় কড়া নাড়ছে শীত, গিজার চালু করার আগেই যা করা জরুরি

আপলোড সময় : ১৭-১০-২০২৬ ১০:৪৪:৩৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-১০-২০২৬ ১০:৪৪:৩৩ পূর্বাহ্ন

হালকা হিমেল হাওয়া জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। শীত এলেই সকালে কুসুম গরম পানিতে গোসল কিংবা ঘরের নানা কাজে গিজারের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়। পুরো শীতজুড়ে গরম পানির স্বস্তি দিতে এই যন্ত্রের জুড়ি নেই। তবে গরম ও বর্ষার পুরো সময় মাসের পর মাস বন্ধ থাকার পর গিজারটি ব্যবহারের জন্য নিরাপদ আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

দীর্ঘদিন অব্যবহৃত গিজার হঠাৎ চালু করলে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বৈদ্যুতিক তারের ত্রুটি, গ্যাস লিক কিংবা বাথরুমে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের অভাব থেকে প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই শীতের শুরুতে গিজার চালুর আগে কয়েকটি প্রস্তুতি ও সতর্কতা মেনে চলা প্রয়োজন।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা গিজার চালুর আগে যা করবেন

অনেকে শীত শুরু হতেই সরাসরি গিজারের সুইচ চালু করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় গিজারের বৈদ্যুতিক তার, প্লাগ কিংবা পানির পাইপে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

গিজার চালুর আগে এর বাইরের প্লাগ, বৈদ্যুতিক তার ও পাইপের সংযোগস্থল ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। কোথাও তার কাটা, পোড়া দাগ, পানি চুইয়ে পড়া কিংবা অস্বাভাবিক গন্ধ আছে কি না, খেয়াল করুন। সামান্য সন্দেহ হলেও নিজে যন্ত্রের অংশ খুলে মেরামতের চেষ্টা করবেন না। বরং দক্ষ কারিগর দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন।

নিয়মিত সার্ভিসিং কেন জরুরি?

গিজার নিরাপদে ব্যবহার করতে শীতের শুরুতে একবার সার্ভিসিং করিয়ে নেওয়া ভালো।

ইলেকট্রিক গিজারের ক্ষেত্রে সার্ভিসিংয়ের সময় আর্থিং, বৈদ্যুতিক তার ও সার্কিট ব্রেকার ঠিক আছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি।

অন্যদিকে, গ্যাস গিজারের ক্ষেত্রে বার্নার, গ্যাসের পাইপে লিকেজ এবং দহনজনিত ধোঁয়া বের হওয়ার পথ ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ইলেকট্রিক নাকি গ্যাস গিজার—কোনটিতে কী ঝুঁকি?

দুই ধরনের গিজারই গরম পানির সুবিধা দেয়। তবে এগুলোর ঝুঁকির ধরন আলাদা।

ইলেকট্রিক গিজার: এ ধরনের গিজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া ও শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি থাকে। ঘরে এমসিবি (MCB) বা সার্কিট ব্রেকার থাকলেই সব দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব নয়। গিজারে সঠিক আর্থিং এবং মানসম্মত বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

গ্যাস গিজার: গ্যাস গিজারে আগুন লাগা এবং কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কার্বন মনোক্সাইড বর্ণহীন ও গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস। গ্যাসের অসম্পূর্ণ দহনে এটি তৈরি হতে পারে। বদ্ধ জায়গায় এই গ্যাস জমে গেলে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, অজ্ঞান হওয়া এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাই গ্যাস গিজার বসানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত বায়ু চলাচল ও নিরাপদ ধোঁয়া নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। ছোট ও বদ্ধ বাথরুমে এটি স্থাপন করা উচিত নয়।

নিরাপদ থাকতে যে সতর্কতাগুলো মানবেন

১. ভেজা হাতে কখনো গিজারের সুইচ বা প্লাগ ধরবেন না।

২. গিজার চলার সময় অস্বাভাবিক শব্দ, পোড়া গন্ধ কিংবা পানি চুইয়ে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন এবং দক্ষ কারিগরের সাহায্য নিন।

৩. গ্যাসের গন্ধ পেলে ম্যাচের কাঠি জ্বালাবেন না এবং কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ অন-অফ করবেন না। নিরাপদে বাইরে চলে যান এবং বাইরে থেকে নিরাপদ হলে প্রধান গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করুন। এরপর জরুরি সেবা বা অভিজ্ঞ গ্যাস কারিগরের সহায়তা নিন।

প্রবাদ আছে, ‘সাবধানের মার নেই’। তাই শীতের আরাম উপভোগ করার পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিজার ব্যবহারের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও সতর্কতা মেনে চলুন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০