কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের লাশ বিকৃত হয়ে গেছে। তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা ১০টি লাশের মধ্যে ছয়টি পাওয়া গেছে একটি কক্ষে। তাঁদের ঘুমন্ত অবস্থায় থাকার কারণে আগুন থেকে বের হতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকি চারটি লাশ পাওয়া যায় ওয়াশরুমে। আগুন থেকে বাঁচতে তাঁরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারেই ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, টানা সাত ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালানোর পর রাত ২টা ৪০ মিনিটে ১০টি লাশ উদ্ধার করে অভিযান শেষ করা হয়।
তিনি বলেন, রিসোর্ট ভবনে কাঠসহ অন্যান্য দাহ্য পদার্থ বেশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ভেতরে থাকা অতিথিরা বের হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাননি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে লাশগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে রিসোর্টটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু আব্দুল্লাহ জানান, রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া বোর্ডার তালিকা অনুযায়ী, সেখানে ১৮ জন অতিথি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন সকালে হাঁটতে বের হওয়ায় নিরাপদে ছিলেন। সাতজন চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং নয়জন নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন। তবে ঘটনাস্থল থেকে ১০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর মধ্যে একজনের নাম বোর্ডার তালিকার সঙ্গে মেলেনি।
প্রশাসন জানায়, ওই রিসোর্টে একই পরিবারের নয়জন অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন। আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। চিকিৎসার সুবিধার্থে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চারজনকে উড়োজাহাজে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।