পকেটে মোবাইল রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়? যা বলছে গবেষণা

আপলোড সময় : ২১-১০-২০২৬ ১০:১৭:৫৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-১০-২০২৬ ১০:১৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

প্যান্টের পকেটে মোবাইল ফোন রাখার অভ্যাস পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। কিছু গবেষণায় মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণের সঙ্গে শুক্রাণুর গতিশীলতা ও জীবিত থাকার সক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই।

ডেম হেলথের প্রতিষ্ঠাতা এবং রিনিউ হেলথকেয়ারের স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রাজীব আগরওয়ালের মতে, বিষয়টি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়া কিংবা সব আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া—কোনোটিই ঠিক নয়। বরং গবেষণার ফলাফল ও সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি বোঝা প্রয়োজন।

ডা. আগরওয়ালের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু গবেষণায় মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং শুক্রাণুর গতিশীলতা ও জীবিত থাকার সক্ষমতার মধ্যে সম্ভাব্য নেতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রমাণ ততটা ধারাবাহিক নয়।

কিছু গবেষণায় প্যান্টের সামনের পকেটে মোবাইল রাখার অভ্যাসের সঙ্গে শুক্রাণুর গুণগত বৈশিষ্ট্যের সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, এ অবস্থায় ফোনটি অণ্ডকোষের কাছাকাছি থাকে। তবে শুধু ফোনের অবস্থানের ভিত্তিতে শুক্রাণুর ক্ষতি হয়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

ডা. আগরওয়াল গবেষণার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছেন। মোবাইল ফোনের বিকিরণ নিয়ে উদ্বেগজনক অনেক ফলাফল এসেছে পরীক্ষাগারে শুক্রাণুর নমুনা পরীক্ষা কিংবা মানুষের অভ্যাসের ওপর পরিচালিত জরিপ থেকে। এসব গবেষণার ফলাফল সরাসরি বাস্তব জীবনে পুরুষের প্রজননক্ষমতার ওপর একই প্রভাব প্রমাণ করে না।

অন্যদিকে, সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছেন এমন দম্পতিদের নিয়ে পরিচালিত একটি সুপরিকল্পিত গবেষণায় প্যান্টের পকেটে মোবাইল রাখার অভ্যাসের সঙ্গে বীর্যের গুণমান কিংবা গর্ভধারণে সময় লাগার স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

তাই মোবাইল ফোনের বিকিরণকে সম্ভাব্য ঝুঁকির একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা গেলেও একে বন্ধ্যত্বের প্রমাণিত কারণ বলা যায় না।

শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ প্রসঙ্গে ডা. আগরওয়াল কোএনজাইম কিউ১০ (CoQ10)-এর কথা উল্লেখ করেছেন। কিছু নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় এ সম্পূরক গ্রহণের পর অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সূচক কমা এবং শুক্রাণুর গতিশীলতার উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ও লাইকোপিনের মতো উপাদান নিয়েও গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় শুক্রাণুর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ওপর এসব উপাদানের সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। তবে সবার জন্য এসব সম্পূরক প্রয়োজনীয় নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এগুলো গ্রহণ করা উচিত নয়।

ডা. আগরওয়ালের পরামর্শ, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করার সময় কিংবা রাতে চার্জে দেওয়ার সময় মোবাইল ফোন প্যান্টের সামনের পকেটের বাইরে রাখা যেতে পারে। এতে ফোনের সঙ্গে অণ্ডকোষের সরাসরি নৈকট্য কমানো সম্ভব, যদিও এতে প্রজননস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো সীমিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুক্রাণুর সংখ্যা বা গুণগত মান কম পাওয়া গেলে শুধু মোবাইল ফোনের ব্যবহারকে দায়ী করা ঠিক নয়। এর পেছনে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত ও জীবনযাপন-সম্পর্কিত কারণ থাকতে পারে। তাই এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে নিজে থেকে কারণ নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করানো জরুরি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০