কম তেলে স্বাস্থ্যকর রান্নার বিকল্প হিসেবে এয়ার ফ্রায়ারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, কাবাবসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার অল্প তেলেই রান্না করা সম্ভব হওয়ায় অনেকেই এই যন্ত্র ব্যবহার করছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলে কি খাবারের পুষ্টিগুণ কমে যায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলেই খাবারের পুষ্টিগুণ কমে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং খাবারের ধরন, রান্নার সময়, তাপমাত্রা এবং পদ্ধতির ওপর পুষ্টিগুণ অনেকাংশে নির্ভর করে।
কেন জনপ্রিয় এয়ার ফ্রায়ার?
এয়ার ফ্রায়ার গরম বাতাসের প্রবাহের মাধ্যমে খাবার রান্না করে। ফলে ডুবো তেলে ভাজার প্রয়োজন হয় না। এতে তুলনামূলক কম তেল ব্যবহার করে বাইরের অংশ মুচমুচে এবং ভেতরের অংশ নরম রাখা সম্ভব হয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, কম তেল ব্যবহারের কারণে এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি খাবারে অতিরিক্ত চর্বি ও ক্যালোরির পরিমাণ কম হতে পারে। এছাড়া কম সময় রান্না হওয়ায় তাপ-সংবেদনশীল কিছু পুষ্টি উপাদান তুলনামূলক ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকতে পারে।
গ্যাসের চুলায় রান্না কি কম স্বাস্থ্যকর?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসের চুলায় রান্না করলেই খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়—এমন ধারণারও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ভাপে রান্না, সেদ্ধ, কষানো বা ভাজা—প্রতিটি পদ্ধতিরই আলাদা প্রভাব রয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে, সবজি ভাপে রান্না করলে পানিতে দ্রবণীয় কিছু ভিটামিন, বিশেষ করে ভিটামিন সি, তুলনামূলক বেশি সংরক্ষিত থাকতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় পানিতে সেদ্ধ করলে এসব ভিটামিনের একটি অংশ পানিতে চলে যেতে পারে।
এ ছাড়া কিছু সবজি, যেমন ব্রকোলি বা পালংশাক, সঠিকভাবে রান্না করলে নির্দিষ্ট কিছু উপকারী যৌগ শরীরের জন্য আরও সহজলভ্য হতে পারে। আবার অতিরিক্ত তাপ বা দীর্ঘ সময় রান্নার ফলে কিছু ভিটামিনের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নার পাত্রের চেয়ে রান্নার কৌশল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কম তেল ব্যবহার, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় রান্না এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় তাপে না রাখলে খাবারের পুষ্টিগুণ তুলনামূলক ভালোভাবে বজায় থাকে।
তারা আরও বলেন, এয়ার ফ্রায়ার বা গ্যাসের চুলা—উভয় ক্ষেত্রেই প্রোটিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান সাধারণত অক্ষুণ্ণ থাকে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য সঠিক রান্নার পদ্ধতি অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।