প্রতিদিন নিয়মিত এক মুঠো বাদাম খাওয়ার অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। এক লাখ ৪৩ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য নিয়ে আটটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার বিশ্লেষণে বাদাম খাওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কম থাকার যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
‘ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৩০ গ্রাম বাদাম খান—এমন ব্যক্তিদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাদাম না খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম ছিল। গবেষকদের বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, প্রতিদিন অতিরিক্ত ২৮ গ্রাম বাদাম খাওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি আরও কম থাকার সম্পর্ক রয়েছে।
গবেষণায় ১৮ থেকে ৮৭ বছর বয়সী মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৮০ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁদের মধ্যে ২০ হাজার ৬৫৫ জনের উচ্চ রক্তচাপ ছিল। তবে বাদামের ধরন এবং সেগুলো লবণযুক্ত নাকি লবণহীন—এ বিষয়ে গবেষণায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল না।
এর আগে আমন্ড, কাজুবাদাম, আখরোট ও চিনাবাদাম খাওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কম থাকার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তবে বাদামের ধরন, প্রস্তুতপ্রণালি এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে এর সম্ভাব্য উপকারিতা ভিন্ন হতে পারে।
বাদাম যেভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে
বাদামে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
এল-আর্জিনিন: বাদামে থাকা এই অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে সহায়তা করে। নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালিকে শিথিল ও প্রসারিত করতে ভূমিকা রাখে, যা রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক।
ফাইবার: বাদামের খাদ্য আঁশ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রমে সহায়তা করে। এর ফলে তৈরি হওয়া কিছু উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: বাদামে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাস এবং ড্যাশ (DASH) ডায়েটেও বাদাম গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে বিবেচিত। আলুর চিপসের মতো অতিরিক্ত লবণযুক্ত স্ন্যাকসের পরিবর্তে লবণহীন বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়াতে পারে।
বাদাম উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার বিকল্প নয়
বাদাম খাওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেলেও, এর অর্থ এই নয় যে শুধু বাদাম খেলেই উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা সম্ভব। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
যাঁদের ইতোমধ্যে উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন ও জীবনযাপনের নিয়ম মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বাদাম উপকারী হতে পারে, তবে এটি চিকিৎসা বা নির্ধারিত ওষুধের বিকল্প নয়।