‘ছাত্র বা ছাত্রী শারীরিক-যৌন নির্যাতনের শিকার হলে অভিযোগ তদন্তের সুস্পষ্ট নিয়ম থাকা উচিত’

আপলোড সময় : ২৬-১০-২০২৬ ১১:২৩:৩৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-১০-২০২৬ ১১:২৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত কে করবেন এবং কীভাবে তদন্ত হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নিয়ম থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. মির্জা গালিব।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

পোস্টে মির্জা গালিব লেখেন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা—সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এ কথা সমানভাবে প্রযোজ্য। তবে মাদ্রাসা দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় সেখানে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে ইসলামপন্থি মানুষের দায়িত্ব অন্যদের তুলনায় আরও বেড়ে যায় বলে মনে করেন তিনি।

ইসলাম শুধু মুসলমানদের মুক্তির জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবতার মুক্তির জন্য এসেছে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ইসলামি রাজনীতির ধারণা দাঁড়িয়ে আছে এই বিশ্বাসের ওপর যে, সেক্যুলার ব্যবস্থার শোষণ-নিপীড়নের বিপরীতে ইসলামি ব্যবস্থা মানুষের মুক্তির পথ সুগম করতে পারে।

তিনি আরও লেখেন, “আর সেইখানে একটা ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এসে যদি একজন শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়, জুলুমের শিকার হয়, এর পরে যদি আবার ন্যায়বিচার না পায়, এর চাইতে দুঃখজনক কিছু হতে পারে না।”

নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, সেই বিতর্কে না গিয়েও মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশে অনেক বড় বড় আলেম ও ইসলামি রাজনৈতিক দল থাকা সত্ত্বেও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মির্জা গালিব। তিনি লেখেন, “তো, আপনারা সবাই মিলে যদি দেশে ইসলাম শেখার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারেন, তাইলে মানুষ কেন বিশ্বাস করবে আপনারা যে ধর্ম প্রচার করেন, যে রাজনীতি করেন-সেইটা দিয়া মানুষের মুক্তি হবে?”

নেতৃত্বের দায়িত্ব বোঝাতে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি। মির্জা গালিবের ভাষ্য, ইউসুফ (আ.) মিসরের রাজার স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে সাত বছর পর দুর্ভিক্ষের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন এবং সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পরিকল্পনাও তুলে ধরেছিলেন।

তিনি লেখেন, “দুনিয়াতে ফিতনা ফ্যাসাদ তৈরি না করে মানুষের সমাজে কিভাবে ইনসাফ কায়েম হবে, কিভাবে মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান হবে সেইটা দেখানোই নেতৃত্বের মূল কাজ। ঘরের সমস্যা সমাধান না করতে পারলে, সমাজ আর রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধান কেমন করে করব আমরা?”

পোস্টের শেষাংশে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল ও দেশের আলেমদের প্রতি মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা গালিব বলেন, “সমস্যাকে ইগনোর কইরেন না, অস্বীকার কইরেন না, বরং সমস্যাকে স্বীকার করেন, কারন আইডেন্টিফাই করেন, সমাধান করেন, সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট করেন। নিজেদের সততা আর সক্ষমতা জাতিকে দেখান।”

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০