ভারতের অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিয়াং উপত্যকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের নাভি মুম্বাই থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) দুটি কোম্পানিকে পাসিঘাটে নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন উড়োজাহাজের একাধিক ফ্লাইটে আরএএফসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সদস্যকে পাসিঘাট বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে। সিয়াং ও আপার সিয়াং এলাকায় আগে থেকেই আরএএফের কয়েকটি কোম্পানি মোতায়েন রয়েছে।
এ ছাড়া আসামের ডিব্রুগড়, শিবসাগর, যোরহাট, নগাঁও ও নলবাড়ি থেকে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্যদের সিয়াং উপত্যকায় পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ওই অঞ্চলে সিএপিএফের ৩৪টি কোম্পানি মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত আরএএফ দলও মোতায়েন করা হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, অরুণাচল প্রদেশের পূর্ব সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে গত ২৩ অক্টোবরের বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। এ সময় জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগমের (এনএইচপিসি) স্থানীয় কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি পুলিশের গাড়িতেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা বিধায়কদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পাসিঘাট, মেবো ও রুকসিন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারার অধীনে বিধিনিষেধ জারি রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
গত সপ্তাহের সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় অরুণাচল প্রদেশ পুলিশ একাধিক মামলা করেছে। পুলিশ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও আটজনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, সিয়াং উপত্যকার অস্থিরতার মধ্যে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে প্রস্তাবিত আপার সুবানসিরি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে ১২ ঘণ্টার বন্ধ কর্মসূচি পালন করেছে টাগিন স্টুডেন্টস ইউনিয়ন।
জেলার সদর দপ্তর দাপোরিজোতে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় সড়কে যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
টাগিন স্টুডেন্টস ইউনিয়নের অভিযোগ, শনিবার রাতে সংগঠনটির সভাপতির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে আটক করার চেষ্টা করা হয়। এর প্রতিবাদে সংগঠনটি বন্ধ কর্মসূচির ডাক দেয়। একই সঙ্গে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রস্তাবিত আপার সুবানসিরি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিও জানিয়েছে তারা।