সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো এবং প্রতারণার মাধ্যমে অন্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত একজনসহ তিন সরকারি চাকরিজীবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—নুরন্নবী (৫৫), মো. সোহেল (৪০) এবং জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান (২৯)। তাদের মধ্যে নুরন্নবী ও মো. সোহেল চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কর অঞ্চল-২-এর বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। অপরদিকে জুলফিকার আলী বর্তমানে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত এবং সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
সিআইডি জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অনুমোদনের ভিত্তিতে কর অঞ্চল-নোয়াখালীতে গ্রেড-১৩ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য গত ৫ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১১২ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।
তবে নিয়োগের জন্য কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় কয়েকজন প্রার্থীর আবেদনপত্রে থাকা হাতের লেখার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার সময় পূরণ করা চেকলিস্টের হাতের লেখার অমিল ধরা পড়ে। পরে পুনরায় লিখতে দিলে অসঙ্গতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
জিজ্ঞাসাবাদে মো. কামাল উদ্দিন, মো. নাসফুরুল্লাহ ও মো. সুজন স্বীকার করেন যে, তারা নিজেরা লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেননি; তাদের হয়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন।
এ ঘটনায় ২২ জুন নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও সহায়তার অভিযোগে পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। শুরু থেকেই সিআইডির নোয়াখালী জেলা ইউনিট মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে মামলাটি সিআইডির তফসিলভুক্ত হলে তদন্তভার গ্রহণ করে সংস্থাটি।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র অর্থের বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করে বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রকৃত প্রার্থীর পরিবর্তে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করত। দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই পৃথক অভিযানে নুরন্নবী ও মো. সোহেলকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কর অঞ্চল-২ কার্যালয় থেকে এবং জুলফিকার আলী ওরফে রায়হানকে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) গ্রেফতার তিন আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এ সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে সিআইডির অভিযান চলছে।