বলিউডে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। দীর্ঘ এই যাত্রায় হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পের ব্যাপক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, একসময় বলিউডে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আন্তরিকতার পরিবেশ থাকলেও এখন ইন্ডাস্ট্রিটি অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে বলিউডকে আর আগের মতো ‘পরিবার’ মনে হয় না।
সম্প্রতি এআইজি হসপিটালসের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় দত্ত এসব কথা বলেন। তিনি জানান, অভিনয়জীবনের শুরুতে ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ ছিল অনেক বেশি আন্তরিক।
সঞ্জয় দত্ত বলেন, “আমি যখন কাজ শুরু করি, তখন এই ইন্ডাস্ট্রিকে একটি পরিবারের মতো মনে হতো। সবাই একসঙ্গে থাকত, একে অপরকে সাহায্য করত। কিন্তু এখন এটি অনেক বেশি নির্দয় ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। হলিউডের পরিবেশ অবশ্য ভিন্ন।”
১৯৮১ সালে ‘রকি’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় সঞ্জয় দত্তের। এরপর ‘খলনায়ক’, **‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’**সহ একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
সাক্ষাৎকারে কারাগারে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তিনি পেয়েছেন জেলেই—আর তা হলো মানুষকে ক্ষমা করতে শেখা।
তার ভাষায়, “আমি ক্ষমা করতে শিখেছি। একজন কনস্টেবল আমাকে বলেছিলেন, ‘মানুষকে ক্ষমা করতে শিখুন, তাহলে জীবনে আরও বড় হতে পারবেন।’ কেউ আপনাকে কষ্ট দিলেও তাকে ক্ষমা করে দিন।”
সঞ্জয় দত্ত জানান, এই শিক্ষা তার জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গিতে গভীর পরিবর্তন এনেছে এবং তাকে আরও ভালো মানুষ হতে সহায়তা করেছে।
সবশেষে আদিত্য ধর পরিচালিত অ্যাকশন থ্রিলার ‘ধুরন্ধর’ সিনেমায় দেখা গেছে সঞ্জয় দত্তকে। চলচ্চিত্রটিতে তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রশংসা পেয়েছে।