জুলাই জাদুঘরে কোনো ধরনের দলীয় ইতিহাস দেখতে চাই না: নাহিদ ইসলাম

আপলোড সময় : ০৮-০৮-২০২৬ ০৬:২৬:৪৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৮-২০২৬ ০৬:২৬:৪৭ অপরাহ্ন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক বয়ানে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে জাতীয় ইতিহাস চর্চার একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এখানে কোনো ধরনের দলীয় ইতিহাস দেখতে চান না তিনি।

শনিবার রাজধানীর গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, জাদুঘরের বর্তমান প্রদর্শনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের কিছু অংশ তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। পরিচিত কিছু মুখ ও ঘটনা বারবার এসেছে। তবে গণঅভ্যুত্থানের বিস্তৃত পরিসর, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ সেভাবে উঠে আসেনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে হবে। সময়ের ধারাবাহিকতায় আন্দোলনের ঘটনাগুলো সাজানোর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলার আন্দোলনের ঘটনাগুলো আলাদাভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। এসব জায়গায় নির্যাতন, প্রতিরোধ ও মানুষের অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জুলাই জাদুঘরে কোনো ধরনের দলীয় ইতিহাস দেখতে চাই না। এটা প্রকৃত ইতিহাস চর্চার জায়গা এবং জাতীয় ইতিহাসের একটি কেন্দ্র হওয়া উচিত।’

অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দলীয়করণের অভিযোগ এবং সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে পাঠ্যপুস্তক ও ইতিহাসের বয়ান পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রেও যেন একই পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস এমনভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করতে হবে, যাতে দেশের সবাই এটিকে নিজেদের ইতিহাস হিসেবে ধারণ করতে পারেন। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে প্রকৃত সত্য পরিবর্তিত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

জনবল সংকট নিয়ে উদ্বেগ

জাদুঘরের বর্তমান কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর চাপ সামলানোর মতো পর্যাপ্ত জনবল বর্তমানে নেই। প্রায় ২০০ জনের মতো জনবল প্রয়োজন হলেও এখন মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন কাজ করছেন। স্বল্প জনবল দিয়ে আপাতত স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তার মতে, এতে জাদুঘরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের বিভিন্ন নিদর্শন ও ইতিহাস সম্পর্কে সঠিকভাবে জানাতে প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন।

জাদুঘর পরিচালনায় আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ এবং জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেন—এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার দাবি জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জাদুঘরটি স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোয় পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও কাঠামো তৈরি করা দরকার। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী, গবেষক, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। শুরু থেকে যারা জাদুঘর প্রতিষ্ঠার কাজে যুক্ত ছিলেন, তাদের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানো উচিত।

আবু সাঈদসহ শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শনের আহ্বান

জাদুঘরে শহীদ আবু সাঈদের উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান প্রতীক। বর্তমানে প্রদর্শনীতে তাঁর ছবি না থাকার বিষয়টি জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবু সাঈদকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেটি জাদুঘরে প্রদর্শন করা হবে।

শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন আরও বেশি পরিমাণে প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের কাছ থেকে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বিপুলসংখ্যক স্মৃতিচিহ্ন পেয়েছে। এর একটি অংশ বর্তমানে প্রদর্শিত হচ্ছে। বাকি স্মৃতিচিহ্নগুলোও শৈল্পিকভাবে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

গণভবনের পুরো ১৭ একর জায়গাকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে জাদুঘরের পরিসর আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। বিভিন্ন ঘটনা, স্মৃতি ও নিদর্শন আরও বিস্তৃতভাবে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন।

বাদ না দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস সংরক্ষণের তাগিদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে সীমান্ত হত্যা, ভারতবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতি সরিয়ে ফেলার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, ইতিহাসের অংশ হিসেবে এসব ঘটনাও যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা উচিত।

তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরে দেশের ওপর যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পাশাপাশি মানুষের প্রতিরোধ ও বিজয়ের ইতিহাসও জাদুঘরে তুলে ধরতে হবে। কোনো ঘটনা বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তৈরি করা সম্ভব নয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০