মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে আপাতত নতুন দেশ নয়: পাকিস্তান

আপলোড সময় : ১০-০৯-২০২৬ ০৮:১৮:১৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৯-২০২৬ ০৮:১৮:১৪ অপরাহ্ন

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে আপাতত নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। জোটের তিন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য—পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক—বর্তমানে নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও চুক্তির সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এ তথ্য জানান বলে ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অন্য কোনো দেশকে যুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে সাজ্জাদ হায়দার বলেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক নিয়মিত বৈঠক ও পরামর্শ করছে এবং তিন দেশের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে জোট সম্প্রসারণ বা নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির কোনো প্রস্তাব বিবেচনায় নেই।

তিনি বলেন, প্রথমে তিন সদস্যকে চুক্তির আওতায় বিদ্যমান সহযোগিতা ও সাংগঠনিক কাঠামো আরও সুসংহত করতে হবে। ভবিষ্যতে একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োজন রয়েছে—এমন দেশগুলোর জন্য জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নতুন সদস্য নেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা তিন দেশের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কী?

চলতি বছরের ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের নেতারা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

চুক্তিতে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং যৌথ নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তুরস্কের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত জোট নয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর এর কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ শুরু করে তিন দেশ। গত ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে প্রথম স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার বিষয়ে একমত হয় তিন দেশ।

হুথি হামলার মধ্যে কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

পাকিস্তানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন সৌদি আরব ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে রয়েছে। হুথিরা সৌদি ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালানোর পর রিয়াদ পাল্টা বিমান হামলা জোরদার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানও ইরানকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছিলেন, সৌদি আরবের ওপর বড় ধরনের হামলা হলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে, চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০