আল-কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেন ভারতসহ অন্তত আটটি দেশে হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করেছিলেন বলে সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর নথিতে উঠে এসেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিন লাদেন-সংক্রান্ত ৭০টির বেশি প্রেসিডেনশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্রিফ প্রকাশ করেছে সিআইএ। এসব নথিতে ১০০ পৃষ্ঠারও বেশি গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
১৯৯৮ সালের ২৮ আগস্টের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিন লাদেন ভারত, পাকিস্তান, মিসর, কুয়েত, সৌদি আরব, ইয়েমেন, উগান্ডা এবং ‘সম্ভবত’ নাইজেরিয়ায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিলেন।
‘বিন লাদেনের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এখনো হুমকি’ শিরোনামের ওই নথিতে ভারতের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু, হামলার সময় বা বিস্তারিত পরিকল্পনার উল্লেখ নেই। নথিটির কিছু অংশ এখনো গোপন রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ায় বিন লাদেনের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক থাকায় এসব অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থে হামলার আশঙ্কা যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য ছিল।
সিআইএর ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আফগানিস্তানে অবস্থানরত বিন লাদেন ও অন্যান্য সন্ত্রাসী নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরও টিকে ছিলেন এবং তাদের যোগাযোগব্যবস্থা সচল ছিল। আল-কায়েদা কয়েকটি প্রশিক্ষণ শিবিরে আবারও কার্যক্রম শুরু করেছিল এবং কিছু শিবির অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার শিবিরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেও বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।
এমনকি অন্তত ৬০টি দেশে থাকা ব্যক্তি ও সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে হামলার কাজে ব্যবহার করার সক্ষমতা বিন লাদেনের ছিল বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।
প্রকাশিত নথিগুলো থেকে জানা যায়, ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ বুশকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করেছিল সিআইএ।
সিআইএ বলেছে, এসব নথি প্রকাশের মাধ্যমে ৯/১১ হামলার আগে ও পরের সময়কার মার্কিন গোয়েন্দা তৎপরতা সম্পর্কে নজিরবিহীন স্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে।
৯/১১ হামলা
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। তৃতীয় বিমানটি পেন্টাগনে আঘাত করে।
চতুর্থ বিমানটি হোয়াইট হাউস বা কংগ্রেস ভবন লক্ষ্য করে যাচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে বিমানটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।