উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে সচেতনতা থাকলেও রক্তচাপ কমে যাওয়ার বিষয়টিও অবহেলা করার মতো নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে সাধারণত রক্তচাপ ৯০/৬০ মিলিমিটার পারদ (mmHg) বা এর নিচে নেমে গেলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ বা ‘লো প্রেশার’ বলা হয়। তবে শুধু রক্তচাপের সংখ্যা নয়, এর সঙ্গে কোনো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তচাপ কমে গেলে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, চোখে ঝাপসা বা অন্ধকার দেখা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হঠাৎ বা গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সাধারণত কিছু মানুষের রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকলেও কোনো সমস্যা হয় না। তাই সবার জন্য একই মাত্রাকে বিপজ্জনক বলা যায় না। তবে রক্তচাপ কমার সঙ্গে নিয়মিতভাবে শারীরিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অন্য কোনো অস্বস্তি থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কতটা কমলে সতর্ক হবেন
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপকে সাধারণত ১২০/৮০ mmHg-এর আশপাশে ধরা হয়। কারও রক্তচাপ নিয়মিতভাবে ১০০-১১০/৬৫-৭০ mmHg-এর মধ্যে থাকলেও, কোনো উপসর্গ না থাকলে সবসময় তা উদ্বেগের কারণ নয়।
তবে রক্তচাপের মাত্রা কমার পাশাপাশি অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, দাঁড়ালে চোখে অন্ধকার দেখা বা অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে রক্তচাপ যদি বারবার ৯০/৬০ mmHg বা তার নিচে নেমে যায় এবং উপসর্গও থাকে, তাহলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
রক্তচাপ কমে গেলে কী করবেন
১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
লো প্রেশারের প্রবণতা থাকলে পর্যাপ্ত তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে হৃদ্রোগ, কিডনি রোগ বা অন্য কোনো কারণে চিকিৎসক যদি পানি বা লবণ গ্রহণে সীমাবদ্ধতা দিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে।
২. দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকবেন না
একবারে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবার খেতে পারেন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে কিছু মানুষের দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার সমস্যা বাড়তে পারে।
৩. হঠাৎ উঠে দাঁড়াবেন না
দীর্ঘক্ষণ শুয়ে বা বসে থাকার পর দ্রুত উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘুরতে পারে। তাই প্রথমে কিছুক্ষণ বসে নিয়ে ধীরে ধীরে দাঁড়ানো ভালো।
৪. বারবার সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
রক্তচাপ নিয়মিত কমে গেলে শুধু ঘরোয়া উপায়ে তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ পানিশূন্যতা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন কারণে রক্তচাপ কমে যেতে পারে।
হঠাৎ খুব বেশি মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, বিভ্রান্তি বা চরম দুর্বলতার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।