মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার ইস্টের বিজেপি বিধায়ক পরাগ শাহ। তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি রুপি। অর্থ দিয়ে কেনা যায় এমন প্রায় সব ধরনের ভোগ-বিলাসের সুযোগ থাকলেও একদিনের জন্য তিনি নিজেকে ভিখারি সাজিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছেন, মানুষের কাছে হাত পেতেছেন। শুধু তাই নয়, রোদ-বৃষ্টি, শারীরিক পরিশ্রম এবং পথচারীদের কটূক্তিও সহ্য করেছেন তিনি।
পরাগ শাহ ভারতের অন্যতম ধনী রাজনীতিক। তবে নিজের আধ্যাত্মিক গুরুর পরামর্শে সাময়িকভাবে বিলাসবহুল গাড়ি, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে দেন তিনি।
জৈন ধর্মের চাতুর্মাস চলাকালে পরাগ শাহের আধ্যাত্মিক গুরু নম্রমুনি মহারাজ তাকে ব্যতিক্রমী এই পরামর্শ দেন। জীবনের বাস্তবতা এবং প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে যে নানা ধরনের কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়, তা উপলব্ধি করতে একদিনের জন্য ভিখারি হওয়ার পরামর্শ দেন গুরু।
গুরুর নির্দেশ মেনে নিজের সব ধরনের আরাম-আয়েশ ছেড়ে দেন কোটিপতি এই বিধায়ক। মেকআপের মাধ্যমে নিজেকে অসহায় ভিখারির বেশে সাজিয়ে ঘাটকোপারের রাস্তায় নেমে পড়েন তিনি। মানুষের কাছে হাত পাতেন, সেখানেই খাবার খান এবং ভিখারি হিসেবে জীবনযাপনের বাস্তব কষ্ট ও অপমান অনুভব করেন।
ভিখারি সেজে ফিরে গেলেন মানুষের কাছে
এই অভিজ্ঞতা পরাগ শাহকে এতটাই নাড়া দেয় যে পরে মেকআপ তুলে আবার সেই জায়গাগুলোতে যান, যেখানে তিনি ভিখারি সেজে ঘুরেছিলেন। সেখানে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের জীবনযাপন ও পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন।
পরাগ শাহ বলেন, ‘এটা আমার গুরুর নির্দেশ ছিল। তাই একদিন ভিখারি সেজে ঘাটকোপারের রাস্তায় ঘুরেছি।’
তিনি স্বীকার করেন, অর্থ, খ্যাতি ও ক্ষমতা একজন মানুষের মধ্যে অহংবোধ তৈরি করতে পারে। একদিনের এই অভিজ্ঞতা তাকে সেই অহংবোধ থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে এবং ভবিষ্যতেও মাটির কাছাকাছি থাকতে সহায়তা করবে বলে মনে করেন তিনি।
নিজের নিরাপত্তাকর্মীর কাছেও ধাক্কা
ভিখারি সাজার সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
পরাগ শাহ বলেন, ‘আমি যখন ভিখারি সেজে নিজেরই আবাসিক কমপ্লেক্সে ঢুকেছিলাম, তখন আমার নিজের নিরাপত্তাকর্মীই আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন।’
শুধু নিরাপত্তাকর্মীই নন, তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছ থেকেও এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে। ওই বন্ধু নিয়মিত মানুষকে সাহায্য করেন এবং পরাগ শাহকে কিছু না কিছু দেওয়ার জন্য প্রায়ই জোর করেন।
কিন্তু পরাগ শাহ যখন ভিখারি সেজে তার কাছেও যান, তখন সেই বন্ধুও তাকে তাড়িয়ে দেন।
এই ঘটনা থেকে পরাগ শাহের উপলব্ধি, মানুষ অনেক সময় ব্যক্তিকে নয়, তার অর্থ, পদ ও ক্ষমতাকেই মূল্যায়ন করে।
‘মুম্বাইয়ে এখনো মানবিকতা আছে’
তবে সব অভিজ্ঞতা যে নেতিবাচক ছিল, তা নয়। পরাগ শাহ বলেন, মুম্বাইয়ে এখনো মানবিকতা রয়েছে। ভিখারি সেজে রাস্তায় ঘোরার সময় কয়েকজন তরুণ তাকে দেখে ২০ রুপি করে দিয়েছিলেন।
একদিনের এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের জীবন, দারিদ্র্য এবং সামাজিক আচরণের একটি ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিজ্ঞতা তাকে নিজের অবস্থান ও অহংবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি