সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে দেশটি। সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, মদিনার জাবাল সায়িদ প্রকল্প এলাকায় অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক জরিপের মাধ্যমে এসব আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন গণমাধ্যম মন্ত্রীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
সৌদি গণমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাওয়া আকরিকে ভারী বিরল খনিজের উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। পাশাপাশি এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়ামের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে আগ্রহ
তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে বৈচিত্র্য আনতে চায় সৌদি আরব। দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় ইউরেনিয়াম উত্তোলন এবং বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মদিনায় ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান সেই বৃহত্তর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বাড়ছে গুরুত্ব
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই সৌদি আরবের এই ঘোষণা সামনে এলো। ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। সৌদি ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় দেশটি ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবেও বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতার কারণে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সামুদ্রিক যোগাযোগও বিভিন্ন সময় চাপের মুখে পড়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্বেগ রয়েছে। তাদের দাবি, তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচির মাধ্যমে অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা
মদিনায় ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধানের দাবি এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা জোরদার হয়েছে।
গত জুলাইয়ে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তির পাশাপাশি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তি সই করেছে। এর আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
চুক্তির আওতায় সৌদি আরব মার্কিন সরাসরি তদারকি ছাড়াই নিজেদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মদিনায় পাওয়া আকরিকে প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ ইউরেনিয়াম রয়েছে এবং এর কতটা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব—তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান, নমুনা পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পরই প্রকৃত মজুদের পরিমাণ এবং অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনযোগ্য অংশ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।