ইরানে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ পাস করেছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে ২২০-২০৪ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। এটি এ ধরনের তৃতীয় প্রস্তাব।
প্রস্তাবটির পক্ষে সব ভোট দেওয়া ডেমোক্র্যাট সদস্যের পাশাপাশি সাতজন রিপাবলিকান সদস্যও ভোট দেন। এর মাধ্যমে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবটির পক্ষে থাকা রিপাবলিকান সদস্যরা বলেন, বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধীরা যুক্তি দিয়েছেন, ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি এবং ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ সেই হুমকি মোকাবিলার অংশ।
তৃতীয়বারের মতো ভোট
ইরান যুদ্ধ নিয়ে এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে একই ধরনের দুটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ ভোটটি নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদের শেষ দিককার অধিবেশনগুলোর একটি হওয়ায় এটিকে এ ইস্যুতে নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ ভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া আগের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। এবারের প্রস্তাবও প্রেসিডেন্টের কাছে গেলে তার ভেটোর মুখে পড়তে পারে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
যুদ্ধের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার
মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধের সামরিক কার্যক্রম জুলাইয়ের মাত্রায় অব্যাহত থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের মজুত এবং জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দামের ওপরও পড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধক্ষমতা নিয়ে আইনি কাঠামো
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে কিছু সামরিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার বিধান নির্ধারণ করে।
তবে এই আইনের ব্যাখ্যা ও প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক সামরিক ক্ষমতার পরিধি নিয়ে কংগ্রেস ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে।