টাইফয়েড একটি সংক্রামক রোগ, যা সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়। সাধারণত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে এ জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে রোগটি গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।
টাইফয়েড কী
সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণকে টাইফয়েড জ্বর বলা হয়। একই ধরনের আরেকটি সংক্রমণ সালমোনেলা প্যারাটাইফি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়, যা প্যারাটাইফয়েড নামে পরিচিত।
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ঘাটতি থাকলে টাইফয়েড ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। শিশু এবং যেসব এলাকায় নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের সুযোগ কম, সেখানকার মানুষ এ রোগে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
টাইফয়েডের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া। গুরুতর অবস্থায় বিভিন্ন জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
টিকা কীভাবে কাজ করে
টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা টাইফয়েডপ্রবণ এলাকায় টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) ব্যবহারের সুপারিশ করে। টিসিভি এক ডোজে দেওয়া যায় এবং ছয় মাস বয়স থেকে শিশুদের দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটি তুলনামূলকভাবে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দিতে পারে।
এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণকারীদের জন্য টাইফয়েডের অন্য ধরনের টিকাও রয়েছে। ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া টিকা সাধারণত দুই বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য এবং মুখে খাওয়ার জীবিত দুর্বল জীবাণুর টিকা ছয় বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। কোন টিকা কার জন্য উপযুক্ত, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
টিকা না পেলে কী করবেন
সরকারি টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো শিক্ষার্থী টিকা নিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্বাস্থ্যকর্মী বা বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী সুযোগ সম্পর্কে জানা উচিত।
জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকলেও নির্ধারিত নিয়মে ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী বা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।
সরকারি ক্যাম্পেইনের বাইরে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিবন্ধিত হাসপাতাল বা শিশু বিশেষজ্ঞের কাছ থেকেও টিসিভি নেওয়া যেতে পারে। টিকা নেওয়ার আগে শিশুর বয়স, পূর্বের টিকাদানের ইতিহাস ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
টিকা নিলেও সতর্কতা জরুরি
টাইফয়েডের টিকা শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। তাই টিকা নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ পানি পান, ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়া, অপরিষ্কার বা সন্দেহজনক খাবার এড়িয়ে চলা এবং সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস জরুরি।
শিশুর দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা টাইফয়েডের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।