আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে আইসিসির সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ আর্থিক লেনদেন সীমিত বা নিষিদ্ধ হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন চলতি সপ্তাহে অথবা এর পরপরই এ বিষয়ে নির্বাহী পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ছয় থেকে সাত মাসের একটি সময়সীমা পার হওয়ার পর আইসিসির সঙ্গে অধিকাংশ লেনদেন নিষিদ্ধ হতে পারে। এর ফলে আদালটির আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনা, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সেবা গ্রহণ এবং বেতন পরিশোধের মতো কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির নির্দিষ্ট কর্মকর্তা ও বিচারকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সর্বশেষ গত আগস্টে আদালতের প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে আইসিসির বিরোধের অন্যতম কারণ হলো ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের নেওয়া পদক্ষেপ। ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।
যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। আদালতটির কার্যক্রম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এবার নির্দিষ্ট কর্মকর্তার পরিবর্তে পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়বে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।