বাহরাইনে বন্দি হয়ে পড়া মার্কিন সেনাদের পরিবার শোনালেন লোমহর্ষক গল্প

আপলোড সময় : ২২-০৯-২০২৬ ১০:১৪:৫২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-০৯-২০২৬ ১০:১৪:৫২ পূর্বাহ্ন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের শুরুতে বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক পরিবারগুলো নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। হামলা শুরুর পরও দেশটিতে থাকা সব মার্কিন সামরিক পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়নি। ফলে অনেক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।

সিবিএস নিউজের সঙ্গে কথা বলা কয়েকটি পরিবারের সদস্য জানান, সংঘাতের প্রথম দিকে বাহরাইনে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এক সামরিক পরিবারের সদস্য বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার শব্দে ঘুম ভাঙত, আবার সেই শব্দ শুনেই ঘুমাতে যেতে হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিএস জানিয়েছে, বাহরাইনে হামলার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল এবং নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের ভবনগুলো খালি করে দেওয়া হয়েছিল। তবে হামলার ব্যাপ্তি ও স্থায়িত্ব এতটা হবে বলে ধারণা করা হয়নি। ঘাঁটির আশপাশে তখনও বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক পরিবার অবস্থান করছিল।

এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হামলায় বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্যবস্তু হয়। বাহরাইন কর্তৃপক্ষও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। একই সময়ে জুফাইর এলাকায়, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর সদর দপ্তর অবস্থিত, স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করা হয়।

ক্ষয়ক্ষতি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব

সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধের ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনো ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করেনি। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কোন কোন স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন নৌবাহিনী সচিব হাং কাও এক সাক্ষাৎকারে বাহরাইনে ইরানের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা বলেছেন।

১৯৯০-এর দশক থেকে বাহরাইনের নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর হিসেবে কাজ করছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস ও রসদ সরবরাহকেন্দ্র। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, স্থাপনাটির সঙ্গে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ সামরিক সদস্য, প্রতিরক্ষা বিভাগের বেসামরিক কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্য যুক্ত।

হামলার পর বাহরাইন থেকে রসদ সরবরাহের পথেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে। সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরির জন্য কিছু সরবরাহ ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া হয়ে পাঠানো হয়। পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে দীর্ঘ এই পথে সরবরাহ পৌঁছাতে ১৪ থেকে ১৮ দিন সময় লাগার কথা বলা হয়েছে; বাহরাইন থেকে একই কাজ করতে সময় লাগত ৫ থেকে ৭ দিন।

মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডলও পরে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতে রসদ সরবরাহের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

এদিকে বাহরাইন থেকে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জন মার্কিন সেনা ও তাদের পরিবারের সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সিবিএস জানিয়েছে। অনেক পরিবারকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনে আবাসন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও আবাসন ব্যয়সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০