হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আটক করা মার্কিন চালকবিহীন ডুবো যানের (ইউএভি) প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ডুবো যানটির প্রযুক্তি নিয়ে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করা হবে।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।
মোহেবির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। তার দাবি, ওই সংঘাতের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তিনি আটক করা মার্কিন ডুবো যানটির প্রসঙ্গে বলেন, এতে উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে। এর কাঠামো ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে এটি কীভাবে তৈরি ও পরিচালিত হয়, তা বোঝার চেষ্টা করবে ইরান। পরে পাওয়া জ্ঞান নিজেদের প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবো যান আটক করেছে তাদের নৌবাহিনী। ইরানি সংবাদমাধ্যমে ডুবো যানটিকে ‘ডাইভ-এলডি’ মডেলের স্বয়ংক্রিয় ডুবো যান হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি দীর্ঘ সময় পানির নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারে। নজরদারি, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি ও মাইন শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন কাজে এটি ব্যবহার করা যায়। অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, যানটি সর্বোচ্চ ৬ হাজার মিটার গভীরতায় কাজ করতে এবং একটানা ১০ দিন পর্যন্ত চলতে সক্ষম।
তবে ডুবো যানটি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। আইআরজিসি এটিকে অত্যাধুনিক মার্কিন প্রযুক্তিসম্পন্ন ডুবো যান হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, যানটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং এতে সংবেদনশীল তথ্য বা শ্রেণিবদ্ধ সোনার-রাডার সরঞ্জাম ছিল না।
বিশ্লেষকদের মতে, রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ডুবো যানটির কিছু যান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ইরান ধারণা পেতে পারে। তবে এ থেকে ইরান কতটা সামরিক সুবিধা অর্জন করতে পারবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়।