জাতিসংঘে প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রীর ১০ কর্মসূচি: মাহদী আমিন

আপলোড সময় : ২৩-০৯-২০২৬ ১১:৫৯:৩১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৯-২০২৬ ১১:৫৯:৩১ পূর্বাহ্ন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ প্রতিফলিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচি ছিল বহুমাত্রিক। এর মধ্যে ব্যক্তিগত, বহুপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক ছিল। পূর্বনির্ধারিত ১২টি কর্মসূচির মধ্যে সময়স্বল্পতার কারণে দুটি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি অংশ নিতে পারেননি।

দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া বিশ্বনেতা ও তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে আয়োজিত প্রাতরাশে অংশ নেন। পরে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন।

প্রথম দিনে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ. হুসাইন মোহাম্মদ লতিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তারেক রহমান। এসব বৈঠকে দুই দেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিভিন্ন বহুপাক্ষিক বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এরদোয়ান তাকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলেও জানান মাহ্দী আমিন।

হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমের সঙ্গে বৈঠকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং হাইতিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

রোহিঙ্গা সংকটও প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচিতে গুরুত্ব পায়। জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

উন্নয়ন সহযোগিতার অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও বৈঠক করেন তারেক রহমান। এতে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বাণিজ্য, নিয়ন্ত্রণ সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

মাহ্দী আমিন জানান, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি অংশ নিতে পারেননি। তবে মেটার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠক করে। সেখানে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মেটা ব্যবহারকারী, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশন নিয়ে আলোচনা হয়।

দিনের শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে বিশ্বনেতা ও তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে স্ত্রীসহ অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

মাহ্দী আমিন বলেন, সফরের প্রথম দিনের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট এবং উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০