বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এ চুক্তি সই হয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানানো হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন এবং বোয়িংয়ের পক্ষে কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন চুক্তিতে সই করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার কারণে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন। বাংলাদেশের চাহিদা বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নতুন চুক্তির আওতায় পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বিমান। ওই চুক্তিতে ছিল আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮। নতুন চুক্তিসহ চলতি বছরে বিমানের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টিতে।
বিমান জানিয়েছে, নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগটি দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি যাত্রী, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের চাহিদা পূরণের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মাহদী আমিন জানান, বোয়িংয়ের প্রতিনিধিদল পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাসের সঙ্গেও উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
নতুন ১১টি উড়োজাহাজের দাম, অর্থায়ন ও সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।