মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্ক বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এমন পরিস্থিতি এখনো সম্ভাব্য বা স্বাভাবিক পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্নি বলেন, দায়িত্বশীলতার অংশ হিসেবে চরম ঝুঁকির বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হয়। তিনি এটিকে ‘ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ কোনো ‘বেস কেস’ নয়; তবে এ ধরনের সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি না নেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হবে।
দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার দেওয়া বক্তব্য। ২০২৬ সালের আগস্টে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরও শুল্ক নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে এবং ওয়াশিংটন-অটোয়ার মধ্যে পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যিক পদক্ষেপ চলছে।
কানাডার ওপর মার্কিন অর্থনীতির ব্যাপক নির্ভরতার কারণে এ বাণিজ্য বিরোধ নিয়ে অটোয়ার উদ্বেগ রয়েছে। কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও জানিয়েছে, নতুন মার্কিন শুল্ক দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চাপ তৈরি করতে পারে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
এদিকে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পাশাপাশি গত ২৭ আগস্ট লেক অন্টারিওর নাম যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারের জন্য ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্বাহী আদেশও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের আলোচনায় এসেছে। কানাডার পক্ষ থেকে এ পরিবর্তন গ্রহণ করা হয়নি; আন্তর্জাতিকভাবেও হ্রদটির প্রচলিত নাম লেক অন্টারিও।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে কার্নি সরকার। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডা মার্কিন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বিকল্প নিয়ে ভাবছে। এর মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা এবং স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়ও রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে বর্তমান পরিস্থিতির স্বাভাবিক বা আসন্ন পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। কার্নির নিজের বক্তব্যেও বিষয়টি ‘চরম ঝুঁকি’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। দুই দেশ দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও সামরিক অংশীদার হওয়ায় এমন কোনো পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাবও ব্যাপক হতে পারে।