বরেণ্য সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও নির্ভীক কলম সৈনিক আতাউস সামাদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহ। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাংবাদিক জাকির হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতা আনোয়ার হোসেনসহ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা একটা নষ্ট রাজনীতির মধ্যে আছি, দীর্ঘদিন এই রাজনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারছি না। সেখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন সাংবাদিকরা, যারা লেখেন।’
তিনি বলেন, আতাউস সামাদের মতো সৎ ও সাহসী সাংবাদিকরা জাতির ক্রান্তিলগ্নে আলোর দিশারী হিসেবে কাজ করেছেন। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের তার আদর্শ অনুসরণ করা উচিত।
স্মরণসভায় বক্তারা আতাউস সামাদের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, আতাউস সামাদ শুধু সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ইতিহাসের একজন সাক্ষী। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি বিবিসির সংবাদদাতা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, আতাউস সামাদ ছিলেন আপসহীন। তিনি কখনো ক্ষমতার কাছে মাথা নত করেননি। তার লেখনী ছিল ধারালো, তবে বস্তুনিষ্ঠ।
সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, বর্তমান সাংবাদিকতায় যে সংকট চলছে, তা উত্তরণে আতাউস সামাদের মতো নীতিবান সাংবাদিকের প্রয়োজন।
শফিকুল আলম বলেন, আতাউস সামাদ জীবদ্দশায় সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সবসময় সোচ্চার ছিলেন।
আতাউস সামাদ ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন বিবিসি, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)সহ দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে কাজ করেন। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন। ২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।
স্মরণসভা শেষে আতাউস সামাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।