জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের ঘটনার পর এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেত্রী মাহমুদা মিতু। তিনি সালমান মুক্তাদিরকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যিনি জুলাইয়ের রাজপথে সাহস নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং যখন অনেকে কথা বলতে সাহস পাননি, তখন প্রতিবাদ করেছিলেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন মাহমুদা মিতু।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সালমান মুক্তাদির সেই ছেলেটা যে, জুলাইয়ের রাজপথে সাহস নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ১৭ বছরের ধানক্ষেতে শিলংয়ে পালিয়ে থাকা অভুক্তদের পেটে চাঁদা ঢুকানোর ব্যবস্থা করেছে। যখন কেউ কথা বলতে সাহস পায়নি, তখন প্রতিবাদ করেছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘সরি সালমান মুক্তাদির, সব দোষ তোমার কিংবা আমার কিংবা আমাদের, বাংলাদেশের জনগণের।’
মাহমুদা মিতু বলেন, যারা রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করে তার পোস্টটি পড়বেন এবং নিজের দোকান বা বাড়ি নিরাপদ দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন, তাদের সামনেও এমন দিন আসতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি রিয়া গোপ এবং বারান্দায় দাঁড়িয়ে গুলিবিদ্ধ কিশোরী নাইমার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।
তিনি লেখেন, ‘ওদের কোনো দোষ ছিল না, হাসিনা ওদের মাইরা ফালাইছে। আজকে সালমানেরও কোনো দোষ নাই, গতকাল টিকাকেন্দ্র ভাংচুর করা, ওখানেও কোনো অপরাধ হতো না। মহিষ মালিকের চাঁদা না দেওয়ার কারণে যে মহিষগুলোকে বিষ খাইয়ে মারা হলো, ওদেরও দোষ নাই।’
পোস্টে দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন মাহমুদা মিতু। তিনি লেখেন, ‘১৭ বছর পর তারেক রহমান দেশে এসে এই দেশ উপহার দিছে জাতিকে। ন্যূনতম কন্ট্রোলের ক্ষমতা নাই। মেয়েরে চাকরি দেয়, মন্ত্রীর ছেলেমেদের বড়লোক বানায় আর কার্ডের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ভন্ডামি শুরু করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কী জঘন্যভাবে দেশ চালাচ্ছে এরা! আর সালাউদ্দিন সাহেবের ভাবের ঠেলায় তো টেকা যায় না, কথার ফুলঝুরি। চোখে-মুখে কী অহমিকা! উনার কথা মনে হয় পুলিশ শোনে না বা উনারে পাত্তা দেয় না। না হলে এমন অবস্থা কেন হবে? ন্যূনতম লজ্জা কি আছে উনার? কিভাবে মুখ দেখায় উনি?’
এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। সালমান মুক্তাদিরের দাবি, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর জের ধরে তারা স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
একটি ভিডিওতে বিএনপির কর্মীদের উদ্দেশে সালমান মুক্তাদিরকে বলতে শোনা যায়, ‘চাঁদাবাজি করো আর যাই করো, তোমাদের অবস্থান এটুকুই থাকবে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সাধ্য তোমাদের নাই।’
ভিডিওর শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘এই ভিডিওটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বানাচ্ছি। বাংলাদেশে এটা খুবই স্বাভাবিক। এ দেশে কেউ কোনো দলের তোষামুদি না করলে তার নিরাপত্তা অনিশ্চিত।’
স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক থেকে দেড়শ ব্যক্তি হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। তার দাবি, আগন্তুকদের হাতে চাপাতি ও গান ছিল। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে লুকালে হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্র দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।