বরগুনার পাথরঘাটায় সুন্দরবনসংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নিয়মিত হরিণ শিকার চলছে। রাত গভীর হলে বনের বিভিন্ন এলাকায় হরিণ চলাচলের পথে একের পর এক ফাঁদ পেতে রাখে শিকারি চক্র। এসব ফাঁদে আটকা পড়ে বনের চিত্রা হরিণ। মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে হরিণের মাংস, চামড়া ও শিং উদ্ধার হলেও শিকারি চক্রের বড় একটি অংশ থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে দিন দিন কমছে বনের চিত্রা হরিণের সংখ্যা।
গত ১১ সেপ্টেম্বর বিষখালী নদী থেকে সাড়ে ৩০০ কেজি হরিণের মাংস, তিনটি চামড়া ও একটি মাথাসহ মো. ইব্রাহিম (৪৫) নামে এক যুবককে আটক করে কোস্টগার্ড। দক্ষিণ চরদোয়ানীর কালিয়ার খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকার একটি বড় অংশ, পদ্মা, টেংরা, বাদুরতলা, জ্ঞানপাড়া, কাঁঠালতলী ও লালদিয়া—এই সাতটি এলাকায় অন্তত ২০টি শিকারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। রাতের আঁধারে এসব চক্র বনে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। পরে জেলে নৌকায় করে হরিণের মাংস দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিকারি চক্রের এক সদস্য বলেন, বন বিভাগের নির্দিষ্ট কিছু সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করেই তাঁদের হরিণ শিকার করতে হয়। মাসোহারা না দিলে হরিণ শিকার বন্ধ থাকে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু সদস্য শিকারি চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই অবৈধ বাণিজ্য টিকিয়ে রেখেছেন।
সনাকের (টিআইবি) সাবেক সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, অবাধে হরিণ শিকার জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি। বন বিভাগের ভেতরে সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতি বন্ধ না হলে হরিণ রক্ষা করা যাবে না। হরিণ রক্ষায় বন বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সোহেল হাফিজ বলেন, এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই এই বন থেকে হরিণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
তবে বন বিভাগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরগুনা রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. সোহাগ খান। তিনি বলেন, হরিণ শিকার ঠেকাতে পাথরঘাটার স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করা হয়েছে। শিকারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং অধিকাংশ সময় চক্রের সদস্য ও হরিণের মাংস জব্দ করা হচ্ছে। হরিণ শিকার বন্ধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কাজও চলছে।