অপ্রতিম হত্যা: তিনজনের জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর বিবরণ

আপলোড সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ০৯:২২:৫১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ০৯:২২:৫১ পূর্বাহ্ন

কুমিল্লার ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন কিশোরের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, অপ্রতিমকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া এবং হামলার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। জবানবন্দিগুলোতে এসব বিষয়ে মিল থাকলেও যাতায়াতের পথ, ঘটনাস্থল ত্যাগ ও হত্যার পরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তাদের বক্তব্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।

আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল। ঘটনার দিন ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চারজন একই জায়গা থেকে পাহাড়ে যায়নি। কে কোথা থেকে এবং কীভাবে সেখানে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে তিন কিশোরের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

তুহিনের জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অপ্রতিমের সঙ্গে তার দেখা হয়। সেখান থেকে তিনি অপ্রতিমকে সানন্দা পশ্চিমপাড়ার দিকে, অর্থাৎ তাঁর চাচা শাহ আলমের পাহাড়ে নিয়ে যান।

অন্যদিকে অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত এক কিশোর জানিয়েছে, দুপুর ২টার পর কোটবাড়ি বোর্ড মার্কেট এলাকায় অপ্রতিমের সঙ্গে তার দেখা হয়। পরে সন্ধ্যার আগে সে আরেক কিশোর বন্ধুকে নিয়ে পাহাড়ের দিকে যায়। সেখানে যাওয়ার আগেই সে ওই বন্ধুকে অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানায়।

তৃতীয় কিশোরের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি স্কুলের সামনে তার সঙ্গে দেখা হয়। তখন তাকেও হত্যার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। বিকেল ৪টার পর তারা পাহাড়ে গিয়ে তুহিন ও অপ্রতিমকে একসঙ্গে বসে থাকতে দেখে। পরে তারা কিছু সময় গল্প ও আড্ডায় অংশ নেয়।

তিন কিশোরের জবানবন্দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল হলো—হামলার আগে অপ্রতিমের মোবাইল ফোনটি তার কাছ থেকে নেওয়া হয়। অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরের ভাষ্য, সে অপ্রতিমের কাছে ফোন চাইলে অপ্রতিম সেটি তাকে দেন। কিছুক্ষণ ব্যবহারের পর ফোনটি তুহিনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তুহিনের জবানবন্দিতেও ফোন নেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। ফোন ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তুহিন অপ্রতিমকে থাপ্পড় দেন এবং পাশে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। তিন জবানবন্দিতেই তুহিনের প্রথম আঘাতের কথা উঠে এসেছে। তুহিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আঘাতের পর তিনি অন্য দুজনকে অপ্রতিমকে মারতে বলেন।

তবে অপ্রতিমের মৃত্যুর পর ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের চলে যাওয়ার বিষয়ে তাদের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। তুহিনের দাবি, অপ্রতিম মারা যাওয়ার পর অন্য দুজন একদিকে চলে যায় এবং তিনি অন্যদিকে গিয়ে বাসায় ফেরেন।

অপ্রতিমের দোকানের কর্মী কিশোরের জবানবন্দি অনুযায়ী, অপ্রতিম মারা যাওয়ার পর সে ও তার কিশোর বন্ধু একসঙ্গে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তখন তুহিন ঘটনাস্থলেই ছিলেন। আবার তৃতীয় কিশোরের বক্তব্য, সে ও তার বন্ধু একসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় এবং তুহিন অন্যদিকে চলে যান।

হত্যাকাণ্ডের পরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। তুহিন জানান, পরদিন সকালে অপ্রতিমের মামা ফোন করে খোঁজ নেওয়ার পর তিনি এক বন্ধুকে নিয়ে কোটবাড়ি এলাকায় অপ্রতিমকে খুঁজতে যান।

অপ্রতিমের দোকানের কর্মী কিশোর জানায়, সে অপ্রতিমের বাবার এক সহকারীর সঙ্গে তাকে খুঁজতে বের হয়। পরে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়।

তৃতীয় কিশোরের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের পর সে ও তার বন্ধু সন্ধ্যায় ফেসবুকে অপ্রতিমের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে স্ট্যাটাস দেয়।

এদিকে তুহিনের জবানবন্দিতে তার এক বন্ধুর বিষয়ে নতুন তথ্য এসেছে। তুহিন জানান, হত্যাকাণ্ডের পর বাসায় ফিরে তিনি ওই বন্ধুকে ডেকে পুরো ঘটনা জানান। তাঁর দাবি, ওই বন্ধু হত্যার পরিকল্পনার বিষয়টিও আগে থেকেই জানত।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০