রাস্তায় প্রতিদিনের যাতায়াত আরও নিরাপদ করতে বাইক বা স্কুটারে ড্যাশক্যাম ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। দুর্ঘটনার ভিডিও ধারণ, ভুয়া দাবি প্রতিরোধ, হয়রানি থেকে সুরক্ষা এবং নিজের রাইডিংয়ের ভুল চিহ্নিত করতে দুই চাকার বাহনে এই প্রযুক্তির ব্যবহার কার্যকর হতে পারে।
বাইক বা স্কুটারে ড্যাশক্যাম থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া সম্ভব। সড়ক দুর্ঘটনার পর কার ভুল ছিল, তা নিয়ে অনেক সময় জটিলতা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।
এ ছাড়া ছোটখাটো সংঘর্ষ বা ঘষার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা অভিযোগ, হয়রানি কিংবা অর্থ আদায়ের চেষ্টা হলে ক্যামেরার ফুটেজ ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে সহায়তা করতে পারে। ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি অনেক সময় অন্য চালকদেরও সতর্ক থাকতে উৎসাহিত করে।
ঢাকার ব্যস্ত সড়ক কিংবা মহাসড়কে চলার সময় বেপরোয়া গাড়ি বা বাসের কারণে নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হয় মোটরসাইকেল চালকদের। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে ড্যাশক্যামের ফুটেজের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গাড়ি বা ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
ড্যাশক্যাম শুধু অন্যের ভুল শনাক্ত করতেই নয়, নিজের রাইডিংয়ের মান উন্নত করতেও কাজে আসে। রাইড শেষে ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করে অতিরিক্ত গতি, ভুলভাবে ওভারটেক করা কিংবা অসতর্কতার মতো বিষয়গুলো চিহ্নিত করা সম্ভব। এতে পরবর্তী সময়ে আরও সতর্কভাবে বাইক চালানোর সুযোগ তৈরি হয়।
নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি লং রাইডের স্মৃতিও ক্যামেরায় সংরক্ষণ করা যায়। মহাসড়ক, পাহাড়ি পথ কিংবা প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণের দৃশ্য ধারণ করে রাখতে ড্যাশক্যাম ব্যবহার করছেন অনেক রাইডার। বিশেষ করে মোটোভ্লগিং কিংবা ভ্রমণের ভিডিও তৈরিতে এটি কাজে আসে।
তবে ড্যাশক্যাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা জরুরি। ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল থাকা প্রয়োজন।