ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের উপস্থিতির ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতানিয়াহুর সফরের নিন্দা জানায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, অঞ্চলটির দেশগুলোর উচিত ইসরাইলের এমন উপস্থিতির সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, পশ্চিম এশিয়া বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক হামলা এবং ফিলিস্তিন ও লেবাননে সংঘাত বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর মতো একজন ইসরাইলি নেতার এ অঞ্চলে উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলতে পারে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান ও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইসরাইলের দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের বিভিন্ন হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নেতানিয়াহুর সফরের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আঞ্চলিক দেশগুলোর সতর্ক থাকা উচিত।
তেহরান আরও বলেছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা একটি সম্মিলিত বিষয়। ইসরাইলের মতো কোনো পক্ষকে এমন সুযোগ দেওয়া উচিত নয়, যাতে কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো আঞ্চলিক দেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যায়।
এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন। আবুধাবিতে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তাদের ভূখণ্ড যেন এমন কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার না হয়, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে।