কক্সবাজার শহরের বাসটার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের ওয়াশরুম থেকে কুলসুমা আক্তার নামে এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় হোটেলের কক্ষে তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে ওই নারীর সঙ্গে থাকা এক যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বাসটার্মিনাল এলাকার স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর কক্ষের ওয়াশরুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী। নিহত কুলসুমা আক্তার ঈদগাঁও উপজেলার চান্দেরঘোনা এলাকার আলমের মেয়ে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এক যুবক ও কুলসুমা তার দুই বছরের শিশুকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ওই কক্ষে ওঠেন। হোটেলের রেজিস্টারে ঠিকানা হিসেবে ঈদগাঁও উপজেলার ভাদিতলা উল্লেখ করা হয়। পরদিন কক্ষ পরিষ্কার করতে গিয়ে ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পরে ওয়াশরুমে কুলসুমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওয়াশরুম থেকে কুলসুমার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে কুলসুমার সঙ্গে হোটেলে থাকা যুবকের পরিচয় নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ওই যুবক কুলসুমার স্বামী হারুন নন এবং পরিবারের সদস্যরাও তাকে চেনেন না।
পুলিশ জানায়, কুলসুমার স্বামী হারুনের সঙ্গে একটি মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলায় হাজিরা দিতে কক্সবাজার শহরে এসেছিলেন কুলসুমা। ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, কুলসুমার সঙ্গে হোটেলে থাকা যুবকটি তার স্বামী নন। তাকে শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
হোটেলকর্মীরা ওই যুবকের নাম আরফান বলে জানিয়েছেন। তবে তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি কুলসুমার পূর্বপরিচিত কি না কিংবা কীভাবে তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে হোটেলের একই কক্ষে উঠেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ ও রেজিস্টার পর্যালোচনা করে ওই যুবকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাকে শনাক্ত ও আটক করা গেলে কুলসুমার মৃত্যুর কারণসহ ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।