ইরানের কট্টরপন্থি সংসদ সদস্য (এমপি) হামিদ রেজাইকে ১০ মাসের কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে তেহরানের এভিন কারাগারের ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে নেওয়া হয়।
গালফ নিউজ ও ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কারাগারে যাওয়া রেজাই ইরানের প্রথম বর্তমান এমপি। তবে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগে সাজা হয়েছে, সেটি সংসদ সদস্য হওয়ার আগের সময়ের।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রেজাইয়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত কট্টরপন্থি সাপ্তাহিক ‘৯ দে’-তে পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফের বিরুদ্ধে ‘সংসদীয় নথি কারসাজি’র অভিযোগসংবলিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনায় গালিবাফ অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
ইরানের বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, রেজাইকে ‘অন্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বিশেষ ধর্মীয় আদালতের আপিল বিভাগও পরবর্তী সময়ে এই সাজা বহাল রাখে। একই মামলায় গালিবাফকে ‘পার্লামেন্টারি ডিক্টেটর’ বলার একটি ভিডিওসংক্রান্ত অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
রেজাই ২০২৩ সালের নির্বাচনে তেহরান থেকে এমপি নির্বাচিত হন। সংসদে যাওয়ার আগে তিনি ‘৯ দে’ সাপ্তাহিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। মামলার কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন না বলে ইরানের বিচার বিভাগও জানিয়েছে।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে রেজাই ১০ মাসের সাজাকে ‘অযৌক্তিক ও রাজনৈতিক’ বলে মন্তব্য করলেও আদালতের রায় মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তার দাবি, একই ধরনের অপরাধে প্রথমবার দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আরও কম সাজা হতে পারত।
রেজাইয়ের কারাবাসকে কেন্দ্র করে ইরানের রক্ষণশীল রাজনৈতিক শিবিরে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি পার্লামেন্টের স্পিকার গালিবাফ ও প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেইর বিরুদ্ধে কট্টর রক্ষণশীলদের সমালোচনা আরও বাড়িয়েছে।