ঢাকা , সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ , ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নেওয়া প্রকল্পগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ সুলতানপুর সীমান্তে ৫৮ লাখ ৯১ হাজার টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে প্রভোস্ট সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন রূপপুরে প্রথমবারের মতো সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া মা ইলিশ সংরক্ষণে চার জেলায় কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযান রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আইসিইউতে ৪ জন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোমবার থেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, মসজিদ-মন্দির-গির্জায় প্রচারণার নির্দেশ নেত্রকোনায় বিচারিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’র অগ্রগতি জানতে চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অধ্যক্ষের বাড়িতে নিয়োগ পরীক্ষা, ফল ঘোষণা মাদ্রাসায় প্রবীণ সাংবাদিক আমির খসরু মারা গেছেন খোলা হলো লালন মাজারের দানবাক্স, কত টাকা মিলল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলে মা ইলিশ সংরক্ষণে যৌথ অভিযান লালমনিরহাটে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে ট্রাকচাপায় দুই নারী নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্তে ৩৪ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় আটক ৩ কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিমানের চাকা বিচ্ছিন্ন, শাহজালালে জরুরি অবতরণ বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী, বাস্তবায়নে সহায়তার আশ্বাস দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটক ‘বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই, সবাই সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে’

বরেন্দ্রের রোদে সোনালী স্বপ্ন : সৌর সেচে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে অনাবাদী জমি

  • আপলোড সময় : ০৪-১০-২০২৬ ১০:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৪-১০-২০২৬ ১০:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন
বরেন্দ্রের রোদে সোনালী স্বপ্ন : সৌর সেচে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে অনাবাদী জমি

খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র। ডিজেল বা প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা ছাড়াই সৌরশক্তিতে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে জমিতে সেচ দিচ্ছেন কৃষকেরা। এতে অনাবাদি জমিতে চাষাবাদ বাড়ছে, পাশাপাশি কমছে সেচের খরচ।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় সৌর সেচের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ধান, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করছেন কৃষকেরা। কোনো কোনো কৃষক বছরে তিনবার ধান উৎপাদন করছেন বলেও জানিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষক আনারুল বলেন, আগে সেচের পানি পেতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। দূরের পুকুর থেকে ডিজেলচালিত পাম্পের সাহায্যে দীর্ঘ পাইপ টেনে জমিতে পানি আনতে হতো। এতে সেচের খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ত। এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের সংযোগও ছিল না।

সৌর সেচ চালুর পর পরিস্থিতি বদলেছে জানিয়ে তিনি বলেন, সূর্য ওঠার পর পাম্প চালু হলে জ্বালানি খরচ ছাড়াই পানি তোলা যায়। বর্তমানে একটি সৌর পাম্পের মাধ্যমে প্রায় ২০ জন কৃষকের ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকেরা নিজেরা কমিটি গঠন করে যৌথভাবে পাম্পটি পরিচালনা করছেন।

আরেক কৃষক সুমন বলেন, আগে তাঁরা মূলত আমন ধান, শীতকালীন সবজি ও ডাল চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এখন সহজে সেচের পানি পাওয়ায় আউশ ও বোরো ধানের পাশাপাশি আগাম সবজিও চাষ করতে পারছেন। এতে তাঁদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কৃষক আখতার হোসেনের ভাষ্য, সেচের পানির সহজলভ্যতা আগে অনাবাদি ও শুষ্ক থাকা জমিতে চাষাবাদের সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বেগুন চাষের পাশাপাশি পলিথিন মালচিং পদ্ধতিতে আগাম জাতের ফুলকপির চারাও তৈরি করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় বরেন্দ্র অঞ্চলে সৌর সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় গভীর নলকূপের সেচের আওতা কমে এসেছে। এ সংকট মোকাবিলায় কৃষকদের সৌর সেচব্যবস্থা দেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে রাজশাহী বিভাগে ৩২টি সৌর সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি স্থায়ী এবং আটটি বহনযোগ্য সৌর সেচব্যবস্থা। এ ছাড়া বাগানে নির্দিষ্ট স্থানে পানি দেওয়ার জন্য ১০টি প্রিসিশন সৌর সেচব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামান বলেন, দরপত্র অনুযায়ী প্রতিটি সৌর পাম্প স্থাপনে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। একটি পাম্পের জন্য ৫৫০ ওয়াটের ছয়টি সৌর প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাম্পটি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিঘা জমিতে সেচ দিতে পারে।

তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় যেসব এলাকায় গভীর নলকূপের সেচের আওতা কমেছে, সেখানে সৌর সেচ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, কোনো কোনো এলাকায় একটি গভীর নলকূপের সেচের আওতা আগে ১৫০ বিঘা থাকলেও পরে তা কমে প্রায় ৮০ বিঘায় নেমেছে।

প্রকল্প পরিচালকের দাবি, সৌর সেচের ফলে কৃষকদের সেচ ব্যয় প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং ফসলের নিবিড়তা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ভবিষ্যতে প্রচলিত ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পেও সৌর প্যানেল যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মোহনপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল মতিন বলেন, বিদ্যুৎ-সংযোগবিহীন দুর্গম এলাকায় সৌর সেচ বিশেষভাবে কার্যকর। তবে সেচ মৌসুমের বাইরে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করা গেলে এ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, কৃষি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান নির্ভরশীল উপাদান সেচ। তাই সেচব্যবস্থায় সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়লে উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি কৃষিতে জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : gbanglanews

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নেওয়া প্রকল্পগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নেওয়া প্রকল্পগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ