দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় দুজনের লিভারে চর্বি জমেছে। আক্রান্তদের ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, শরীরের ওজন স্বাভাবিক কিংবা কম হলেও লিভারে চর্বি জমতে পারে।
শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগ আয়োজিত ‘ডিএমসি লিভার ফেস্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা।
অনুষ্ঠানে ঢামেক হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. জান্নাতুল হাবিবা নীলা জানান, দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশের ফ্যাটি লিভার রয়েছে।
তিনি বলেন, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত প্রতি চারজনের একজনের ওজন স্বাভাবিক অথবা স্বাভাবিকের চেয়ে কম। অথচ তাঁদের লিভারের ক্ষতির মাত্রাও অতিরিক্ত ওজনের রোগীদের মতো গুরুতর হতে পারে। তাই শুধু শরীরের ওজন দেখে লিভারের সুস্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। ফলে এ সমস্যাগুলোকে আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি লিভারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা জানান, দেশে ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ বাড়ার পেছনে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফাস্টফুড ও জাঙ্কফুড খাওয়া, খেলাধুলা ও ব্যায়াম না করা, রাতে দেরিতে ঘুমানো এবং দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহারের মতো অভ্যাসও লিভারের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, দেশে প্রায় চার কোটি মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। এ ছাড়া হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮৫ লাখ। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের লিভার রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি।
বিশেষজ্ঞরা জানান, লিভারের রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে রোগ শনাক্ত হওয়ার আগেই লিভারের ক্ষতি বাড়তে পারে। এ কারণে সময়মতো রোগ শনাক্ত করা, নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া এবং ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, সুষম খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের লিভারের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের মতে, দেশে লিভার রোগের বিস্তার মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
জি বাংলা ডেস্ক