ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণ ও তাঁর মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বাসচালক ও সহকারীসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ.ন.ম. ইলিয়াস এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বাসচালক মো. আলতাফ (২৫), তাঁর সহকারী মো. রাব্বি (২১) এবং বাসের কন্ট্রাক্টর সাগর ওরফে সজিব মাতাব্বর (২৪)। আলতাফ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে। রাব্বি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। সাগর ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চাঁদরহাট বাজার এলাকার চুন্নু মাতাব্বরের ছেলে।
আদালত তিনজনকেই দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু জানান, গত ১৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে ধর্ষণের শিকার ওই নারী ঢাকার গাবতলী থেকে আশুলিয়া যাওয়ার জন্য সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। পথে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অন্য যাত্রীরা নেমে গেলে বাসে তিনি একা হয়ে পড়েন। পরে চলন্ত বাসে তাঁকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেন দণ্ডিত তিনজন।
এ সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই নারীর কানের দুল, নগদ ৩৬ হাজার টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে বাসটি নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘোরাঘুরি করতে থাকেন তাঁরা।
পরদিন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটি থামানো হয়। এ সময় ওই নারী সেখানে টহলরত হাইওয়ে পুলিশের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন। পরে হাইওয়ে পুলিশ বাসসহ তিনজনকে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ঘটনার দিনই ওই নারী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জী তদন্ত শেষে গত ২৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলায় ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। রায়ের পর দণ্ডিতদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
জি বাংলা ডেস্ক