ঢাকা , রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ , ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী ৫ বছরে জিডিপিতে আইসিটি-টেলিকম খাতের অবদান ১৫% করার লক্ষ্য সরকারের

  • আপলোড সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ০১:০৯:১৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ০১:০৯:১৭ পূর্বাহ্ন
আগামী ৫ বছরে জিডিপিতে আইসিটি-টেলিকম খাতের অবদান ১৫% করার লক্ষ্য সরকারের
প্রধানমন্ত্রীর টেলিকম ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেছেন, টেলিকম ও আইসিটি খাতকে সরকার দেশের অন্যতম ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে বিবেচনা করছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের শীর্ষ ২০ দেশের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ : নতুন সরকার কী ভাবছে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি)।

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের টেলিকম ও আইসিটি খাতের জিডিপিতে অবদান ১ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। তবে সঠিক নীতিমালা, প্রযুক্তি অবকাঠামো এবং সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এই অবদান কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব বলে সরকার মনে করছে।

তিনি জানান, গ্রাহকসংখ্যার বিচারে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ২০ দেশের একটি হলেও সেবার মানের সূচকে দেশের অবস্থান এখনও ৯০-এর পরে। আগামী পাঁচ বছরে এই অবস্থান পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক মানের টেলিকম সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

কর কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের কার্যকর করহার ৫৫ থেকে ৫৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় মাত্র ২২ শতাংশ। উচ্চ করহার বিনিয়োগ ও সেবার মান উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে আসন্ন বাজেটে গ্রাহকবান্ধব কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেন তিনি।

বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এফডিআই-জিডিপি অনুপাত মাত্র শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ, যা অত্যন্ত কম। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত রোডম্যাপ তৈরি করছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ পান।

স্মার্টফোন ব্যবহার বাড়াতে সরকার স্থানীয়ভাবে কমদামি স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সহজ কিস্তিতে ফোন কেনার সুযোগ দিতে মোবাইল অপারেটর ও ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

স্পেকট্রাম নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু রাজস্ব আয় নয়; বরং ডেটা সেন্টার, ক্লাউড অবকাঠামো, কনটেন্ট ডেলিভারি এবং সাইবার নিরাপত্তাসহ ডিজিটাল অর্থনীতির সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় অবকাঠামো, সরকারি তথ্য ও গ্রাহক ডেটা সুরক্ষায় দ্রুত উন্নয়ন প্রয়োজন। একইসঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অনুদান, ঋণ, কর্মপরিসর ও স্কেল-আপ সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ২০৪৮ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং এ যাত্রায় টেলিকম ও আইসিটি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফকির মাহবুব আনাম। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী, মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)-এর মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকারসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : সাজিদুল ইসলাম পাঠান

কমেন্ট বক্স