শৈশব থেকেই প্রচলিত একটি ধারণা হলো, গাজর খেলে চোখের দৃষ্টি ভালো হয় এবং চশমার প্রয়োজন কমে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজর চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও এটি দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় বা চশমার প্রয়োজনীয়তা দূর করে—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। ভিটামিন এ চোখের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে কম আলোতে দেখার ক্ষমতা ঠিক রাখতে এবং রেটিনার স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে এটি প্রয়োজনীয়।
তবে চিকিৎসকদের মতে, গাজর খাওয়ার অর্থ এই নয় যে দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তীক্ষ্ণ হয়ে যাবে বা চশমা ছাড়াই দেখা সম্ভব হবে। শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতির কারণে যে দৃষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে, তা প্রতিরোধে গাজরসহ ভিটামিন এ-সমৃদ্ধ খাবার উপকারী। কিন্তু চোখের আকৃতি বা প্রতিসরণজনিত ত্রুটি, যেমন ক্ষীণদৃষ্টি (মায়োপিয়া), দূরদৃষ্টি (হাইপারোপিয়া) বা অ্যাস্টিগমাটিজম গাজর খেয়ে দূর করা যায় না।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যাদের শরীরে ভিটামিন এ-এর মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তির অতিরিক্ত কোনো উন্নতি হয় না। তবে গাজর একটি পুষ্টিকর সবজি। এতে থাকা আঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সামগ্রিক স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং ত্বকের সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
অতিরিক্ত পরিমাণে দীর্ঘদিন গাজর খেলে কিছু মানুষের ত্বকে হলুদ বা কমলা আভা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে ক্যারোটেনেমিয়া বলা হয়। এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং গাজর খাওয়ার পরিমাণ কমালে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চোখ সুস্থ রাখতে শুধু গাজরের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা প্রয়োজন। লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিনসমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মাছ, বাদাম এবং ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ও জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্টাফ রিপোর্টার