খুলনার পাইকগাছায় বাজার থেকে কেনা গরুর মাংস রান্না শুরু করার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই সবুজ রং ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মাংস ধোয়ার সময় পানির রং কালচে হয়ে যাওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে মাংসের রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কেউই নিশ্চিত মন্তব্য করতে পারেননি।
জানা গেছে, বুধবার (২২ জুলাই) সকালে পাইকগাছা পৌর মাংস বাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল কসাইয়ের কাছ থেকে স্থানীয় একটি বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম ফ্রিজে সংরক্ষিত গরুর মাংস কেনেন। তাদের দাবি, রান্না শুরু করার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই মাংসের রং সবুজ হয়ে যায়। এছাড়া মাংস ধোয়ার সময় পানির রংও কালচে হয়ে যায়। বিষয়টি দেখে তারা স্থানীয়দের জানান এবং পরে রান্না করা মাংস থানায় নিয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে মাংস বিক্রেতা ইসমাইল কসাই বলেন, একই মাংস সেদিন আরও অনেক ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু ওই বেকারির কর্মচারী ছাড়া অন্য কোনো ক্রেতার কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তার দাবি, মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি গত ১৫ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছি। বেকারিতে ব্যবহৃত কোনো রং বা রাসায়নিক ভুলবশত রান্নার সময় মিশে যাওয়ার কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।’
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, দুপুরে বেকারির কর্মচারীরা রান্না করা মাংসের কড়াই থানায় নিয়ে আসেন। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তারা অভিযোগ দায়ের করেননি। কিছুক্ষণ পর তারা মাংস নিয়ে ফিরে যান।
এ ঘটনায় বাজারে নিম্নমানের বা রাসায়নিকযুক্ত মাংস বিক্রির আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাংসের রং পরিবর্তনের কারণ পরীক্ষাগারে যাচাই করা হয়নি এবং কোনো সরকারি সংস্থার পরীক্ষার ফলও প্রকাশিত হয়নি।
স্থানীয়রা দ্রুত মাংসের নমুনা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।