ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন নির্বাচনে এমপিও শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি আজই বিদ্যুৎ সরবরাহে ফিরছে আদানির বন্ধ ইউনিট হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত দিল ইরান আজকের স্বর্ণের দাম: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ রক্তচাপ কতটা কমলে সতর্ক হবেন আমিশা প্যাটেলের মুম্বাইয়ের বাড়িতে চুরি, গৃহকর্মী গ্রেফতার কেশমের কাছে ইরানি জাহাজে হামলা, নিহত ১ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম ১৫ সেপ্টেম্বর, প্রার্থী চূড়ান্ত ১৮ তারিখ জোরপূর্বক পদত্যাগ পত্রের আইনি বৈধতা নেই: হাইকোর্ট নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারদের সম্মতি ও নতুন নিবন্ধনে আহ্বান ইসির হাসপাতাল ব্যবস্থাপককে বস্তায় ভরে টেনে নেওয়ার ভিডিও, বাস্তবে যা ঘটেছে ওসামা বিন লাদেনের ‘হিটলিস্টে’ ছিল ভারতসহ ৮ দেশ কিডনি রোগীদের জন্য বড় সুখবর বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ এমবাপ্পের জোড়া গোলে জিতল রিয়াল পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ২৩ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বিডিআর বিদ্রোহে সাজা নিয়ে সংসদকে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কিডনি রোগীদের জন্য বড় সুখবর

  • আপলোড সময় : ১৩-০৯-২০২৬ ১০:৫৪:২৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-০৯-২০২৬ ১০:৫৪:২৭ পূর্বাহ্ন
কিডনি রোগীদের জন্য বড় সুখবর

দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসব্যাপী ডায়ালাইসিস বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট—দুই ক্যাটাগরিতে ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা বলেন, ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জনকে ডায়ালাইসিস সেবার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সিলেটসহ আরও কয়েকটি স্থানে ব্যাপকভাবে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, সারা দেশের কিডনি রোগীদের দ্রুত ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে আরও নার্স নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আবেদনকারীকে সরকারি চাকরিতে অন্তত দুই বছর পূর্ণ করতে হবে এবং বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।

গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সমন্বয় সেলের উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী পাঠানো হয়। এর আগে ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। সেদিন অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রান্তিক রোগীদের জন্য বাড়বে সেবা

কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন।

তবে ডায়ালাইসিস সেবা মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রান্তিক এলাকার অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই ঢাকায় অবস্থিত। ফলে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে এ সেবা এখনো অপ্রতুল।

নথি অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের ডায়ালাইসিস কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে এ সুবিধা স্থাপনের জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আড়াই হাজার নার্সসহ মোট ৫ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতি ব্যাচে ৫০ থেকে ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থী থাকবেন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের সংকট দূর করতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক পাওয়া না গেলে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন এবং মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে ৬০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : M Mehedi Hasan Arif

কমেন্ট বক্স