ঢাকা , বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ , ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৩ অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সাক্ষাৎ সার সংকটে ১১ দলীয় জোটের এমপিদের হাত থাকতে পারে: মীর শাহে আলম গ্রাম-শহরে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে প্রেরণ, পাচার চক্রের ২ সদস্য আটক তরুণদের চোখে চোখ রেখে কথা বলার স্বাধীনতা দিতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টারের শুভ উদ্বোধন : ডিজিটাল তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সিআইডির নতুন মাইলফলক সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রায়পুরায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, অগ্নিনির্বাপণ মহড়া দেশে আটকে পড়া সৌদি প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণাসহ ছয় দফা দাবি সাদপন্থিদের যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির ডিম উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী চুরির অপবাদে শিশুকে নির্যাতন, কীটনাশক পান করে হাসপাতালে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে: আইনমন্ত্রী ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা দুর্গাপূজায় চালের বরাদ্দ বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী: এমপি ফয়সল জার্মান পর্যটকের উদ্ধার ল্যাপটপ হস্তান্তর করেছে পুলিশ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৪ লাখ টন খাদ্য মজুদ করবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

ঢাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

  • আপলোড সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০৭:৪২:৪৭ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০৭:৪৩:৩৯ অপরাহ্ন
ঢাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

রাজধানী ঢাকায় ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন ভূতাত্ত্বিক ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এ অঞ্চলের ভূমিকম্পের ৩০০ থেকে ৫০০ বছরের পুনরাবৃত্তির (রিটার্ন পিরিয়ড) চক্র প্রায় পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি সক্রিয় ফল্ট লাইনে দীর্ঘদিন ধরে চাপ সঞ্চিত থাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে ঠিক কবে এমন ভূমিকম্প ঘটবে, তা পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল অবকাঠামো, বিল্ডিং কোড অমান্য করে নির্মাণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে সম্ভাব্য বড় ভূমিকম্পে রাজধানীতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি ভেনিজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ঢাকার ভূমিকম্পঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত ২১ নভেম্বর নরসিংদীর মাধবদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। এতে কয়েকটি ভবন হেলে পড়ে এবং সারা দেশে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ছোট ছোট ভূমিকম্পকে বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস বলা না গেলেও এগুলো ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক কার্যকলাপের ইঙ্গিত বহন করে।

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা—এই তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ঢাকার কাছাকাছি মধুপুর ফল্ট এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ডাউকি ফল্ট দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের শক্তি নির্গত না হওয়ায় সেখানে চাপ সঞ্চিত রয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ঢাকার বিস্তীর্ণ এলাকা জলাশয় ভরাট করে গড়ে উঠেছে। এসব এলাকার নরম মাটি বড় ধরনের ভূমিকম্পে তরল পদার্থের মতো আচরণ (লিকুইফ্যাকশন) করতে পারে, ফলে বহুতল ভবন দেবে যাওয়া বা হেলে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

তিনি বলেন, ভূমিকম্প কখন হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তাই ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তার মতে, বড় ধরনের ভূমিকম্পে প্রাণহানির প্রায় ৯০ শতাংশই ভবন ধসের কারণে ঘটে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত কোনো বিশেষ কার্যক্রম না থাকলেও নতুন ভবন যেন মানসম্মতভাবে নির্মিত হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাজউকের ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২১ লাখ স্থাপনা রয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে দুর্বল কাঠামোর প্রায় ৭২ হাজার ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়তে পারে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া চারতলার বেশি উচ্চতার ভবনের প্রায় ৪০ শতাংশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বড় ধরনের ভূমিকম্পে প্রায় সাড়ে আট লাখ ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ঢাকার সবচেয়ে বড় দুর্বলতার মধ্যে রয়েছে জলাশয় ভরাট করে গড়ে ওঠা বসতি, বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ, সংকীর্ণ সড়ক, অতিরিক্ত জনঘনত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিয়মিত পরিদর্শনের অভাব, অপরিকল্পিত গ্যাস ও ইউটিলিটি লাইন এবং উদ্ধার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা।

তাদের মতে, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও কার্যকর প্রস্তুতির মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ জন্য জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালা (বিএনবিসি) কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, নতুন ভবনের ক্ষেত্রে মাটির লিকুইফ্যাকশন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের রেট্রোফিটিং, উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ, কমিউনিটি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ, পুরান ঢাকার সড়ক প্রশস্তকরণ এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধার সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Mehedi

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৩ অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৩ অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সাক্ষাৎ