ঢাকার ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস, নেপথ্যে কী
রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ফুটপাতে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক যুবককে ওই ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারতে দেখা যায়। এ সময় কাছেই দুই পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তাঁদের নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ সড়কে অবস্থিত বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীতে এ ঘটনা ঘটে।
২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মারধরের শিকার হন শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানা (৪৮)। পরে তাঁকে আটক করে ধানমন্ডি থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় আদালত তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
‘পুলিশের কাছে সহযোগিতা না পেয়ে পরিস্থিতির শিকার হয়ে ক্ষমতা হাতে নিয়ে বাপের বয়সী লোকের বিচার করা হচ্ছে!’ এরপর বলা হয়েছে, ‘বিঃদ্রঃ ভাগনিকে ব্যাড আচরণ করায় মামা পুলিশের অসহযোগিতা পেয়ে এমন বিচার করতে বাধ্য।’ এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ওই ব্যক্তি তাঁকে ‘ব্যাড টাচ…’
— জি বাংলা ডেস্ক
তবে পুলিশের উপস্থিতিতে মারধর এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
আরও পড়ুন
রণক্ষেত্র মিরপুর, পুলিশের গাড়িতে আগুন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক রাগ ও ক্ষোভের সঙ্গে গালাগাল করতে করতে ওই ব্যক্তিকে থাপ্পড় ও লাথি মারছেন। এ সময় আশপাশে পথচারীরা ভিড় করেন। তাঁদের কেউ ঘটনাটি দেখছিলেন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন।
মূল বিষয়গুলি
- রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ফুটপাতে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
- গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ সড়কে অবস্থিত বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীতে এ ঘটনা ঘটে।
- ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মারধরের শিকার হন শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানা (৪৮)।
- তবে পুলিশের উপস্থিতিতে মারধর এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
ভিডিওতে পথচারীদের কথোপকথনের খণ্ডিত অংশ শোনা যায়। তাঁদের কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছে’, ‘ক্যানটিনে এই ঘটনা ঘটে’ এবং ‘মা-বোন নাই’।
একপর্যায়ে এক পথচারী মারধরের শিকার ব্যক্তির কাছে গিয়ে সেখানে উপস্থিত দুই পুলিশ সদস্যকে দেখিয়ে তাঁকে তাঁদের হাতে তুলে দিতে বলেন। পরে ওই ব্যক্তিকে বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতে দেখা যায়। তাঁর মুঠোফোন নিয়ে এক পথচারী ও মারধরকারী যুবক তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় উত্তেজিত যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘কিসের সরি, সরি বললেই সব শেষ হয়ে যায়?’ এরপর ‘... তুই একটি মায়ের গায়ে হাত দিয়েছিস’ বলে তিনি ওই ব্যক্তিকে আবারও থাপ্পড় মারেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাতে যখন এ ঘটনা ঘটছিল, তখন কয়েক হাত দূরে দুই পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আশপাশে ভিড় করা পথচারীদের মতো তাঁরাও ঘটনাটি দেখছিলেন।
ফেসবুকে অনেকে এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একটি পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘আহা-বাংলাদেশ! আহা স্বাধীনতা! আহা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইনের শাসন! পুলিশের সামনেই দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে একজন বাবার বয়সী লোকের উপর মব সৃষ্টি করছে, অথচ পুলিশ দর্শকের মতো ভূমিকা নিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে শুধু দেখছে?’
অন্য একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ওই ব্যক্তির ভাগনির সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হলেও পুলিশ কোনো আইনি সহায়তা দেয়নি। এ কারণে ভুক্তভোগী পরিবার শেষ পর্যন্ত এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। পোস্টটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার কারণে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।
সম্রাট শাহাদত নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে প্রকাশিত ভিডিওটি ৪৬ লাখ বার দেখা হয়েছে। এতে ৬৪ হাজার প্রতিক্রিয়া পড়েছে এবং ভিডিওটি ১১ হাজার বার শেয়ার হয়েছে।
ওই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘একটা দেশ এভাবে চলতে পারে? পুলিশের কাছে সহযোগিতা না পেয়ে পরিস্থিতির শিকার হয়ে ক্ষমতা হাতে নিয়ে বাপের বয়সী লোকের বিচার করা হচ্ছে!’ এরপর বলা হয়েছে, ‘বিঃদ্রঃ ভাগনিকে ব্যাড আচরণ করায় মামা পুলিশের অসহযোগিতা পেয়ে এমন বিচার করতে বাধ্য।’
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ওই ব্যক্তি তাঁকে ‘ব্যাড টাচ’ বা খারাপভাবে স্পর্শ করেছেন। ঘটনার পর তাঁকে ধরে কর্তব্যরত দুই পুলিশ সদস্যের কাছে নিয়ে গেলে তাঁরা ওই ব্যক্তিকে নিতে অনাগ্রহ দেখান। বরং তাঁকেই ধানমন্ডি থানায় গিয়ে মামলা করতে বলেন। লোকটি কেন এমন আচরণ করেছেন, জানতে চাইলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে ‘সরি’ বলেছিলেন। পরে মামাকে ফোন করলে তিনি এসে ক্ষুব্ধ হয়ে লোকটিকে মারধর করেন। এরপর পুলিশ ওই ব্যক্তিকে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়।
ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুন ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাস্থল থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। এরপর শহীদ আবদুল্লাহকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, তরুণীর শরীর স্পর্শ করার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদ অভিযুক্ত শহীদ আবদুল্লাহকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছেন। ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ জানিয়েছেন, শহীদ আবদুল্লাহ তরুণীকে শ্লীলতাহানির কথা স্বীকার করায় তাঁকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।
ওসি ইমদাদুল বলেন, শহীদ আবদুল্লাহকে মারধর করে ওই যুবক আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ করেছেন। তাঁকে খুঁজছে পুলিশ। আর ঘটনাস্থলে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
পুলিশ কর্মকর্তা ইমদাদুল আরও বলেন, শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত। এমবিবিএস পড়ার সময় তাঁর এ সমস্যা দেখা দেয়। তাঁর বিয়ে হয়েছিল, তবে অনেক আগেই স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।