বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ কী, সন্দেহে একটি গাছ
রাজধানী ঢাকার একাংশসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আকস্মিক এ বিপর্যয়ের ফলে বিপাকে পড়েন অসংখ্য গ্রাহক। প্রাথমিকভাবে মেঘনা ঘাট-হরিপুর সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে ঠিক কী কারণে এ বিপর্যয় ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পাওয়ার গ্রিড পিএলসির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মেঘনা ঘাট-হরিপুর সঞ্চালন লাইনের কাছাকাছি কয়েকটি আকাশমণি গাছের ডাল থেকে বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। হাইভোল্টেজ লাইনের দুই মিটারের মধ্যে গাছের ডাল চলে এলে বৈদ্যুতিক ফ্ল্যাশওভার বা শর্টসার্কিটের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে একটি সার্কিট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন অন্য সার্কিটে অতিরিক্ত চাপ পড়লে সেটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে গাছের ডালের কারণেই এবারের বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সঞ্চালন লাইনের ডেটা রেকর্ডার থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
‘বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সিতে পরিবর্তন, সঞ্চালন লাইনে অতিরিক্ত চাপ কিংবা লাইনের সংস্পর্শে পাখি, গাছের ডাল ও অন্যান্য বস্তু আসার কারণেও গ্রিডে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।’
— জি বাংলা ডেস্ক
বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সিতে পরিবর্তন, সঞ্চালন লাইনে অতিরিক্ত চাপ কিংবা লাইনের সংস্পর্শে পাখি, গাছের ডাল ও অন্যান্য বস্তু আসার কারণেও গ্রিডে ত্রুটি দেখা দিতে পারে। সাধারণত একটি সার্কিট বন্ধ হয়ে গেলে অন্য সার্কিটের পুরো লোড নেওয়ার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকলে একের পর এক সার্কিট ও বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন
রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কত হতে পারে?
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। বেলা পৌনে একটার দিকে গ্রিড বিপর্যয়ের পর সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াটে। এতে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন, মতিঝিল, মগবাজার, বনশ্রী, খিলগাঁও ও বাংলামোটরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রামের একাংশও বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
মূল বিষয়গুলি
- রাজধানী ঢাকার একাংশসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
- পাওয়ার গ্রিড পিএলসির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মেঘনা ঘাট-হরিপুর সঞ্চালন লাইনের কাছাকাছি কয়েকটি আকাশমণি গাছের ডাল থেকে বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
- তবে গাছের ডালের কারণেই এবারের বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
- বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সিতে পরিবর্তন, সঞ্চালন লাইনে অতিরিক্ত চাপ কিংবা লাইনের সংস্পর্শে পাখি, গাছের ডাল ও অন্যান্য বস্তু আসার…
প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর জাতীয় গ্রিড পুরোপুরি সচল হয়। তবে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রাত ২টার সময়ও প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
এদিকে, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ দিতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড পিএলসি। প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রধান জানিয়েছেন, তদন্তকাজ শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকেও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজাকে প্রধান করে গঠিত পাঁচ সদস্যের এ কমিটিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি ভারত থেকেও বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। ফলে ফ্রিকোয়েন্সির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বিদ্যুতের চাহিদা সঠিকভাবে নিরূপণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক সহ-উপাচার্য আবদুল হাসিব চৌধুরী বলেন, সঞ্চালন লাইনের একটি সার্কিট বন্ধ হয়ে গেলে অন্য সার্কিটের পুরো লোড নেওয়ার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ঘাটতি রয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা মূল্যায়ন করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি থেকে যাবে।
বাংলাদেশে এর আগেও একাধিকবার জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এর আগে ২০১৭ সালের ৩ মে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ৩২টি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছিল। আর ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে প্রায় ১৫ ঘণ্টা দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
বারবার এমন বিপর্যয়ের ঘটনা বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি জোরদারের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই এবারের বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।