হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সালকে নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের অর্থের উৎস ও সম্পদের অনুসন্ধানে দেশে-বিদেশে সম্ভাব্য অবৈধ বিনিয়োগের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির তদন্তে ফয়সাল, তাঁর স্ত্রী শাহেদা পারভিন সামিয়া এবং তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব হিসাব আদালতের আদেশে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এসব হিসাবে থাকা ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা অবরুদ্ধ করার আদেশও দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদাবর থানায় ফয়সাল ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তাঁর স্ত্রী শাহেদা পারভিন সামিয়া এবং আরও দুই-তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলা করেছে সিআইডি। মামলার নথি অনুযায়ী, ফয়সালের কয়েকটি ব্যাংক হিসাব ও সেসব হিসাবে হওয়া লেনদেন পর্যালোচনা করতে গিয়ে সম্ভাব্য অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। বিদেশে অর্থ স্থানান্তর ও বিনিয়োগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে সিআইডির আর্থিক অপরাধ ইউনিট।
‘ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের অর্থের উৎস ও সম্পদের অনুসন্ধানে দেশে-বিদেশে সম্ভাব্য অবৈধ বিনিয়োগের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।’
— জি বাংলা ডেস্ক
তদন্তে ফয়সালের একটি ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর একটি বেসরকারি ব্যাংকের রূপনগর শাখায় হিসাবটি খোলেন তিনি। হিসাব খোলার সময় ব্যবসার ধরন হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি, পরামর্শসেবা ও প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়। বছরে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা লেনদেন হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হলেও পরবর্তী দুই মাসে ওই হিসাবে ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা লেনদেন হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
জিয়াউর রহমানকে মুক্তির কৃতিত্ব জাসদের নয়, সেনাবাহিনীর: সাখাওয়াত
সিআইডির মতে, ওই হিসাবে নগদ উত্তোলন তুলনামূলক কম হলেও অর্থ পরিশোধ ও স্থানান্তরের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। ব্যবসার ধরন, লেনদেনের ধরন এবং ব্যবসার অনুমতিপত্রে দেওয়া তথ্যের মধ্যেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে তদন্ত নথিতে দাবি করা হয়েছে।
মূল বিষয়গুলি
- ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের অর্থের উৎস ও সম্পদের অনুসন্ধানে দেশে-বিদেশে সম্ভাব্য অবৈধ বিনিয়োগের তথ্…
- সিআইডির তদন্তে ফয়সাল, তাঁর স্ত্রী শাহেদা পারভিন সামিয়া এবং তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- এ ঘটনায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদাবর থানায় ফয়সাল ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তাঁর স্ত্রী শাহেদা পারভিন সামিয়া এবং আরও দুই-তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের ম…
- তদন্তে ফয়সালের একটি ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
তদন্তে ফয়সালের মালিকানাধীন অ্যাপল সফট আইটি ও পিনাকল সলিউশন ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে একটি চুক্তির তথ্যও পেয়েছে সিআইডি। নথি অনুযায়ী, সরকারি তিনটি প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছিল প্রতিষ্ঠান দুটি। সিআইডির দাবি, পরবর্তী তদন্তে ওই প্রকল্পগুলোর দরপত্রের প্রস্তাব জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলে ফয়সালের ব্যাংক হিসাবে ৫৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া ঠিকাদারি ব্যবসার আড়ালে জাল দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তদন্ত করছে সিআইডি।
সিআইডি জানিয়েছে, ফয়সালের সংযুক্ত আরব আমিরাতে একাধিকবার যাতায়াতের সুযোগসংবলিত পর্যটন ভিসা ছিল। ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে ফেরেন। বর্তমানে তাঁর দুবাইয়ে কোনো সম্পদ বা বিনিয়োগ রয়েছে কি না এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর বা বিনিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করছে আর্থিক অপরাধ ইউনিট।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর ফয়সাল তাঁর স্ত্রীর নামে ৬৫ লাখ টাকার একটি এফডিআর করেন।
এদিকে, ফয়সালের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে একটি মামলা এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ভারতে পালিয়ে যান। ২০২৬ সালের মার্চে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স তাঁকে গ্রেপ্তার করে।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।