লামায় রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম বান্দরবানে স্থানান্তর, স্থানীয়দের ক্ষোভ
বান্দরবানের লামা উপজেলার সব ধরনের ভূমি রেজিস্ট্রেশনের কাজ উপজেলা কার্যালয় থেকে সরিয়ে জেলা সদরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের মতো লামাতেই রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
জানা গেছে, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধিমালা ১৯০০’-এর ২০ বিধি অনুযায়ী গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজমিন সুলতানা এ নির্দেশ জারি করেন। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লামা উপজেলার বায়না, সাব-কবলা, দানপত্র ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নিসহ সব ধরনের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সম্পন্ন হবে।
এতদিন এসব কাজ লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিচালনা করে আসছিলেন।
‘নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লামা উপজেলার বায়না, সাব-কবলা, দানপত্র ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নিসহ সব ধরনের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সম্পন্ন হবে।’
— জি বাংলা ডেস্ক
উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালে লামায় মোট ১ হাজার ২৬৩টি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
আরও পড়ুন
গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পাহাড়ি ও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সদরে গিয়ে রেজিস্ট্রেশনের কাজ করতে হবে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এতে তাঁদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তি বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
মূল বিষয়গুলি
- বান্দরবানের লামা উপজেলার সব ধরনের ভূমি রেজিস্ট্রেশনের কাজ উপজেলা কার্যালয় থেকে সরিয়ে জেলা সদরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
- জানা গেছে, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধিমালা ১৯০০’-এর ২০ বিধি অনুযায়ী গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজমিন সুলতানা এ নির্দেশ জারি করেন।
- এতদিন এসব কাজ লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিচালনা করে আসছিলেন।
- উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালে লামায় মোট ১ হাজার ২৬৩টি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
লামার রূপসীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘লামা থেকে জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। ছোটখাটো একটি কাজের জন্য কষ্ট করে এত দূর যাওয়া খুব কঠিন। এতে আমাদের টাকা ও সময় নষ্টের পাশাপাশি ভোগান্তি বাড়বে।’
সরই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসনের উচিত মানুষের কষ্টের কথা ভেবে মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। আমরা চাই, আগের মতোই লামা ইউএনও অফিসে এসব কাজ করার সুযোগ দেওয়া হোক।’
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার জানান, রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি জেলা প্রশাসকের অধীনে। তাঁরা সরকারি আদেশ মেনে কাজ করেন। তবে লামা থেকে জেলা সদরের দূরত্ব বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি বোধগম্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান বলেন, রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে বা ফিরিয়ে নেওয়া হবে, তা জেলা প্রশাসকের বিষয়। তবে জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক নাজমিন সুলতানার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।