ট্রাম্পের সমালোচনায় ওবামার পাশে কেন প্রগতিশীলেরা
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সম্প্রতি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নেমেছেন। ওহাইও ও মিশিগানে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচনা করেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ওবামা নিজেও প্রায় একই ধরনের বিতর্কিত নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত হার্ভার্ড ইয়ুথ পোলের জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত তরুণ ভোটারদের দুই-তৃতীয়াংশই কংগ্রেসে ডেমোক্রেটিক পার্টির কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট। এমনকি তরুণ ডেমোক্র্যাটদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ চান, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ হোক। এত অসন্তোষের পরও ডেমোক্র্যাট ও প্রগতিশীল রাজনীতিকেরা নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে ওবামাকেই ব্যবহার করছেন, অথচ তার নিজ শাসনামলের রেকর্ডও ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
‘ডিপোর্টার-ইন-চিফ’ ও অভিবাসন নীতি
‘২০০৯ সালে শান্তিতে নোবেল পেলেও আরব ও মুসলিম বিশ্বে স্বৈরশাসকদের সহযোগিতা, হন্ডুরাসে গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতে সমর্থন এবং ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে গোয়েন্দা ও রসদ সহায়তা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড তাঁর আমলকে বিতর্কিত করেছে।’
— আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ওবামাকে একসময় ‘ডিপোর্টার-ইন-চিফ’ বা অভিবাসীদের সর্বাধিক বহিষ্কারকারী প্রেসিডেন্ট বলা হতো। তাঁর আমলে ৩০ লাখের বেশি অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ২০১৪ সালে তাঁর প্রশাসনই পরিবারসহ অভিবাসীদের আটকে রাখার ব্যবস্থা পুনরায় চালু করে। হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থী মা ও শিশুকে বন্দি করা হয়। ওই সময় বন্দিশিবিরের সক্ষমতা ১০০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ করা হয়েছিল। আজ সেই ওবামাই ট্রাম্পকে ‘বিশৃঙ্খলা ও নিষ্ঠুরতার’ প্রতীক হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন, যা তাঁর নিজের অতীতের সঙ্গে রীতিমতো সাংঘর্ষিক।
আরও পড়ুন
এইচএসসির ফল বিপর্যয়: দায় কার, করণীয় কী?
যুদ্ধ, ড্রোন হামলা ও পররাষ্ট্রনীতি
মূল বিষয়গুলি
- যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সম্প্রতি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নেমেছেন।
- সম্প্রতি প্রকাশিত হার্ভার্ড ইয়ুথ পোলের জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত তরুণ ভোটারদের দুই-তৃতীয়াংশই কংগ্রেসে ডেমোক্রেটিক পার্টির কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট।
- ‘ডিপোর্টার-ইন-চিফ’ ও অভিবাসন নীতি
- ওবামাকে একসময় ‘ডিপোর্টার-ইন-চিফ’ বা অভিবাসীদের সর্বাধিক বহিষ্কারকারী প্রেসিডেন্ট বলা হতো।
বামা বর্তমানে ইরানে ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির সমালোচনা করছেন (যেখানে ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন)। অথচ তাঁর দুই মেয়াদে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে এক লাখের বেশি আফগান ও ইরাকি এবং আড়াই হাজার মার্কিন নাগরিক নিহত হন। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ওবামার কাছে সাপ্তাহিক হত্যার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা থাকত। ২০১১ সালে ইয়েমেনে তাঁর নির্দেশিত ড্রোন হামলায় ১৬ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক নিহত হন। এছাড়া ইয়েমেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে বিয়েবাড়ি, হাসপাতাল ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলায় শত শত মানুষ প্রাণ হারান।
২০০৯ সালে শান্তিতে নোবেল পেলেও আরব ও মুসলিম বিশ্বে স্বৈরশাসকদের সহযোগিতা, হন্ডুরাসে গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতে সমর্থন এবং ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে গোয়েন্দা ও রসদ সহায়তা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড তাঁর আমলকে বিতর্কিত করেছে।
ফিলিস্তিন ইস্যু ও প্রগতিশীলদের আপস
ইসরায়েলের প্রতি ওবামার অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল। ইসরায়েলি হামলায় নিহত হাজার হাজার আরব বেসামরিক মানুষের প্রতি সমবেদনা জানানোর বদলে তিনি উল্টো ফিলিস্তিনিদের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি ইউরোপীয় খ্রিষ্টানদের হাতে সংঘটিত হলোকাস্টের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি বা 'নাকবা'-র চলমান ইতিহাস এড়িয়ে যান। অথচ মিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল সিনেট প্রার্থী আবদুল রহমান এল-সাইয়েদের মতো নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘করপোরেট সমাজতন্ত্র’ এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও ওবামার সঙ্গেই নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।
অতীতের দায়মুক্তি ও পরিবর্তনের সংকট
ক্ষমতা গ্রহণের আগে ওবামা বলেছিলেন, ‘অতীতের দিকে না তাকিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকানো উচিত।’ এই যুক্তিতে তিনি বুশ প্রশাসনের নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচারের উদ্যোগ নেননি। ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন এবং ২০২০ সালে জো বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারেও একই চিত্র দেখা গেছে—তাঁদের ‘কম ক্ষতিকর বিকল্প’ হিসেবে তুলে ধরে সমর্থন আদায় করা হয়েছিল। তরুণ ভোটাররা যখন নীতিগত পরিবর্তন চাইছেন, ডেমোক্র্যাটরা তখন সাবেক নেতাদের সামনে এনে পুরোনো নীতিই টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
লেখক: জোসেফ মাসাদ (আধুনিক আরব রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের অধ্যাপক, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। মিডল ইস্ট আই থেকে অনূদিত)





মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।