গভীর রাতে কুকুর কেন কাঁদে? কুসংস্কার নয়, রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
রাত যত গভীর হয়, পাড়ায় পাড়ায় রাস্তার কুকুরের ডাক তত বেশি শোনা যায়। দীর্ঘ ও করুণ সুরের এই ডাক অনেকের মনে ভয় তৈরি করে। প্রচলিত কুসংস্কার অনুযায়ী, রাতে কুকুরের এমন ডাককে কেউ কেউ অশুভ ঘটনার ইঙ্গিত মনে করেন। তবে প্রাণিবিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কুকুরের স্বাভাবিক যোগাযোগের একটি পদ্ধতি। এর পেছনে রয়েছে নানা আচরণগত ও শারীরিক কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে কুকুরের ডাকাডাকি মূলত নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ, অবস্থান জানান দেওয়া এবং সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে অন্যদের সতর্ক করার একটি উপায়। চারপাশ শান্ত থাকায় এ সময় তাদের ডাক অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ভারতের ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ডা. রাকেশ রানার মতে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ থেকেই কুকুরের এ ধরনের ডাকের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। রাতের নিস্তব্ধতায় এই আওয়াজের মাধ্যমে তারা দূরে থাকা সঙ্গীদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করে এবং নিজেদের অবস্থান জানায়।
‘একাকিত্ব ও বিচ্ছিন্নতা: পরিচিত এলাকা ছেড়ে নতুন জায়গায় চলে আসা কিংবা মানুষের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণে কুকুরের মধ্যে উদ্বেগ ও একাকিত্ব তৈরি হতে পারে।’
— জি বাংলা ডেস্ক
অন্যদিকে, প্রাণিবিজ্ঞানী ও চিকিৎসক ড. পলের মতে, রাতে কুকুরের অতিরিক্ত ডাকাডাকির পেছনে মানসিক ও শারীরিক নানা কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ, আশপাশের পরিবেশ থেকে তৈরি হওয়া ভয় এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া।
আরও পড়ুন
অনলাইনে আট কোটির বেশি খতিয়ান, ঘরে বসেই মিলবে জমির রেকর্ড
কুকুর রাতে ডাকাডাকি করে কেন?
মূল বিষয়গুলি
- রাত যত গভীর হয়, পাড়ায় পাড়ায় রাস্তার কুকুরের ডাক তত বেশি শোনা যায়।
- বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে কুকুরের ডাকাডাকি মূলত নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ, অবস্থান জানান দেওয়া এবং সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে অন্যদের সতর্ক করার একটি উপায়।
- ভারতের ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ডা.
- অন্যদিকে, প্রাণিবিজ্ঞানী ও চিকিৎসক ড.
যোগাযোগ স্থাপন: রাতের নীরব পরিবেশে কুকুরের ডাক অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। দূরে থাকা অন্য কুকুরের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিজেদের অবস্থান জানান দিতে তারা দীর্ঘ সুরে ডাকতে পারে।
একাকিত্ব ও বিচ্ছিন্নতা: পরিচিত এলাকা ছেড়ে নতুন জায়গায় চলে আসা কিংবা মানুষের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণে কুকুরের মধ্যে উদ্বেগ ও একাকিত্ব তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবেও তারা ডাকাডাকি করতে পারে।
ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা: অচেনা পরিবেশ, অপরিচিত শব্দ বা সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় কুকুর ডাকতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে আচরণগত পরিবর্তন বা জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমে গেলেও কিছু কুকুরের মধ্যে রাতে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
শারীরিক অসুস্থতা বা ব্যথা: দুর্ঘটনায় আঘাত পাওয়া, অসুস্থতা কিংবা শরীরের কোথাও ব্যথা থাকলে কুকুর অস্বাভাবিকভাবে ডাকতে পারে। এ ধরনের ডাক তাদের কষ্ট বা অস্বস্তির লক্ষণ হতে পারে।
এলাকা পাহারা দেওয়া: নিজেদের বিচরণক্ষেত্রে অন্য কুকুর বা অপরিচিত প্রাণীর উপস্থিতি টের পেলে তারা ডাক দিয়ে অন্যদের সতর্ক করতে পারে। এভাবে নিজেদের এলাকা রক্ষার আচরণও প্রকাশ পায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কুকুরের ডাক শুনে কুসংস্কারে বিশ্বাস করে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তবে কোনো কুকুরের ডাক যদি স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিক বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার শারীরিক অসুস্থতা, ব্যথা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।