এইচএসসি ফলাফল/এক শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১২ শিক্ষক, তবুও ফেল
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়ার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানে একাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কাহালুর আল্লামের তাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মাত্র একজন। মানবিক বিভাগের ওই একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন। অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন এবং কর্মচারী চারজন।
প্রতিষ্ঠানটিতে টানা দুই বছর ধরে এমন ফলাফল বিপর্যয় ঘটছে। এর আগে ফলাফল এমন ছিল না বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান মণ্ডল। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট অবসরে যান তিনি। তাঁর সময়ে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল এবং পরীক্ষার ফলাফলও ভালো হতো। শিক্ষার্থীরা বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফল করত।
তিনি বলেন, গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তবে তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। এবারও মানবিক বিভাগ থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন।
‘এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানে একাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কাহালুর আল্লামের তাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মাত্র একজন।’
— জি বাংলা ডেস্ক
তবে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ টিএম ফেরদৌস আলম পলাশ বলেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষার জন্য পাঁচজন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র একজন। বাকি চারজন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও পাস করতে পারেনি।
আরও পড়ুন
সাজেকে ফের গোলাগুলি, সোমবার থেকে অবরোধ
অধ্যক্ষ বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে এখন শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে চায় না। এসএসসি পাসের পর অনেকে কর্মজীবনে প্রবেশ করে, আবার মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা নিজেদের টাকায় তাদের ভর্তি, ফরম পূরণ ও বইপুস্তকের ব্যবস্থা করেন। মূলত প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতেই তাঁরা এসব উদ্যোগ নেন।
মূল বিষয়গুলি
- চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়ার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
- প্রতিষ্ঠানটিতে টানা দুই বছর ধরে এমন ফলাফল বিপর্যয় ঘটছে।
- তিনি বলেন, গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
- তবে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ টিএম ফেরদৌস আলম পলাশ বলেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষার জন্য পাঁচজন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল।
তিনি আরও বলেন, বগুড়ার শিক্ষার্থীরা এখন তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়তে আগ্রহী। ফলে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর ধরে কর্মরত শিক্ষকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান অধ্যক্ষ। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ক্লাস করার পর আর আসে না। একপর্যায়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিও কমে যায়। পরে তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ডেকে এনে ক্লাস পরিচালনার চেষ্টা করেন।
অধ্যক্ষ জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে সাধারণ শাখার পাশাপাশি বাণিজ্য শাখারও অনুমোদন রয়েছে। মানবিক বিভাগে চার থেকে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। কলেজ শাখাসহ প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১২ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত আছেন।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।