নেত্রকোনায় ধানক্ষেত থেকে খণ্ডিত লাশ উদ্ধার
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় নিখোঁজের দুই দিন পর ধানক্ষেতের আইল থেকে পাঁচ বছর বয়সী জান্নাত আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করায় বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহত জান্নাত উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের হুগলি গ্রামের আরশাদ মিয়ার মেয়ে।
রোববার (১ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন জান্নাতের বাবা মো. আরশাদ মিয়া ও মা ইয়াসমিন আক্তার।
হুমকির ঘটনায় গত ২৮ অক্টোবর কলমাকান্দা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শিশুটির বাবা। হুমকির পর থেকে পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
‘নেত্রকোনার কলমাকান্দায় নিখোঁজের দুই দিন পর ধানক্ষেতের আইল থেকে পাঁচ বছর বয়সী জান্নাত আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করায় বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।’
— জি বাংলা ডেস্ক
নিহত শিশুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে বিকেলে জান্নাত বাড়ির উঠানে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। সেখান থেকেই নিখোঁজ হয় সে। নিখোঁজের সময় তার পরনে ছিল লাল রঙের জামা এবং গলায় ছিল গামছা। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয় এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
সাজেকে ফের গোলাগুলি, সোমবার থেকে অবরোধ
নিখোঁজের দুই দিন পর ৬ মে সকালে স্থানীয় এক ব্যক্তি আসাদ মিয়ার বাড়ির পেছনে প্রায় ৩০০ গজ দূরে ধানক্ষেতের আইলে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি জান্নাতের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটির বিচ্ছিন্ন দেহের অংশ ও একটি পা উদ্ধার করে। ওই দিন সকাল ১০টার দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মূল বিষয়গুলি
- নেত্রকোনার কলমাকান্দায় নিখোঁজের দুই দিন পর ধানক্ষেতের আইল থেকে পাঁচ বছর বয়সী জান্নাত আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করায় বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার …
- রোববার (১ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন জান্নাতের বাবা মো.
- হুমকির ঘটনায় গত ২৮ অক্টোবর কলমাকান্দা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শিশুটির বাবা।
- নিহত শিশুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে বিকেলে জান্নাত বাড়ির উঠানে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল।
জান্নাতের ভাই হৃদয় মিয়া বলেন, তাঁর বোনকে অপহরণ করে দুই দিন পর হত্যা করা হয়েছে। এখন আসামিরা তাঁর বাবা, মা ও তাঁকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এ ঘটনার বিচার এবং বোনের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি।
শিশুটির স্বজন মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘কীভাবে এমন হলো আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। শিশু বাচ্চাটির শুধু ডান পায়ের নিচের অংশ ও মাথার অংশটুকু গামছা দিয়ে পেঁচানো ছিল। আর কিছু ছিল না। আমার মামাতো বোন ছোট শিশু, তার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল বলে জানা নেই। এই হত্যাকারী জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
জান্নাতের মা ইয়াসমিন আক্তার কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ বাচ্চাকে হত্যা করেছে। মামলা করায় এখন আমার স্বামী-সন্তানকেও হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমরা নিরাপত্তা চাই। আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।’
কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সোহেল রানা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। আসামি কয়েকজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তারা জামিনে এসেছেন বলে শুনেছি। মামলার বাদীকে হুমকির ঘটনায় জিডি হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে শিশুটির বাবা মো. আরশাদ মিয়া, মা ইয়াসমিন আক্তার, ভাই হৃদয় মিয়া, স্বজন মিজানুর রহমান, ইমরান হোসেন ও মাহবুব তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।