বলাৎকার ও ধর্ষণ নিয়ে যে হুঁশিয়ারি দিলেন ডিআইজি কুদ্দুছ
ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধের দায় কখনোই ভুক্তভোগীর নয়, এ দায় সম্পূর্ণভাবে অপরাধীর। ধর্ষণের শিকার হয়ে বেঁচে যাওয়া শিশুকে বাকি জীবন ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়। এই ট্রমা বা ভয় কীভাবে কাটবে? আইন শতভাগ প্রয়োগের মাধ্যমে এসব অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমনবিষয়ক এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। কক্সবাজার জেলা পুলিশ এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাজে শিশু ও কিশোরদের ওপর যৌন সহিংসতার নতুন ও আশঙ্কাজনক প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিআইজি বলেন, ‘আজকাল একটি নতুন বিষয় দেখা যাচ্ছে, যেখানে ছেলে শিশুরাও বলাৎকার ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এর চেয়ে নোংরামি ও নষ্টামি আর হতে পারে না। আমরা দেখেছি, এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষকরা। যারা সমাজে ধর্মের আলো ছড়াবেন, তাদের সেই আলো আজ অধর্মের অন্ধকারে মিশে যাচ্ছে। এই পচা-গলা ও অন্ধ সমাজ আমরা চাই না। নিজেদের শোধরাতে হবে, ভালো হতে হবে। আপনি আপনার ছাত্রদের বা সন্তানদের কী শিক্ষা দিচ্ছেন, তা ভাবার সময় এসেছে।’
‘একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও জবাবদিহির আওতায় এনে প্রশ্ন করা হবে—কেন আপনার সন্তান সন্ধ্যার পর বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে?’ অঞ্চলটিতে অপরাধ দমন ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের সাফল্য তুলে ধরে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি জানান, যোগদানের গত তিন মাসে পুরো রেঞ্জে—শুধু কক্সবাজার নয়, ১১টি …’
— জি বাংলা ডেস্ক
কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কিশোর গ্যাং বলে এই রেঞ্জে কিচ্ছু থাকবে না। যারা ছিনতাই বা মাদকে জড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কিশোররা যাতে বিভ্রান্ত হয়ে অন্ধকার চোরাগলিতে হারিয়ে না যায় বা ইভটিজার না হয়ে ওঠে, সেজন্য আমাদের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। সন্ধ্যার পর স্কুল বা কলেজপড়ুয়া কোনো শিক্ষার্থীকে অকারণে রাস্তায় আড্ডা দিতে দেখলে তাদের গ্রেফতার করা হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও জবাবদিহির আওতায় এনে প্রশ্ন করা হবে—কেন আপনার সন্তান সন্ধ্যার পর বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে?’
আরও পড়ুন
আজ থেকে অটোরিকশার নিবন্ধন শুরু, জেনে নিন এককালীন ফি ও মেয়াদ
অঞ্চলটিতে অপরাধ দমন ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের সাফল্য তুলে ধরে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি জানান, যোগদানের গত তিন মাসে পুরো রেঞ্জে—শুধু কক্সবাজার নয়, ১১টি জেলায়—মাদক উদ্ধারের পরিমাণ দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে। পাশাপাশি আসামি গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় চার গুণ। গত তিন মাসে এ রেঞ্জে মোট ৬০ হাজার আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মূল বিষয়গুলি
- ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধের দায় কখনোই ভুক্তভোগীর নয়, এ দায় সম্পূর্ণভাবে অপরাধীর।
- শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমনবিষয়ক এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক…
- সমাজে শিশু ও কিশোরদের ওপর যৌন সহিংসতার নতুন ও আশঙ্কাজনক প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিআইজি বলেন, ‘আজকাল একটি নতুন বিষয় দেখা যাচ্ছে, যেখানে ছেলে শিশুরাও বলাৎকা…
- কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কিশোর গ্যাং বলে এই রেঞ্জে কিচ্ছু থাকবে না।
সমাবেশে উপস্থিত স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন রেখে ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান। বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাবুদ, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান এবং জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, কক্সবাজার শহরে বহুমাত্রিক অপরাধ সংঘটিত হয়। অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সম্প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।