অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়?
বিয়ে মহান আল্লাহ তাআলার বিশেষ নেয়ামত। এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং ঈমানের পূর্ণতার সহায়ক। যুবক-যুবতীর চরিত্র গঠন, আদর্শ পরিবার প্রতিষ্ঠা, জৈবিক চাহিদা পূরণ ও মানসিক প্রশান্তি লাভের অন্যতম মাধ্যম বিয়ে। এটি মানুষের স্বভাবজাত চাহিদাও।
এক প্রশ্নকারী জানতে চান, স্বামী যদি অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাবা-মা কিংবা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের চাপে তালাকনামায় স্বাক্ষর করেন, অথচ তালাক দেওয়ার কোনো নিয়ত তাঁর আগে বা পরে ছিল না; বরং তিনি এখনো স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করতে চান, তাহলে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব কি না, নাকি তাঁদের মধ্যে সত্যিই তালাক হয়ে গেছে?
জবাবে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের বলেন, ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে জবরদস্তি বা চাপের ধরন ভিন্ন হতে পারে।
‘এক প্রশ্নকারী জানতে চান, স্বামী যদি অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাবা-মা কিংবা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের চাপে তালাকনামায় স্বাক্ষর করেন, অথচ তালাক দেওয়ার কোনো নিয়ত তাঁর আগে বা পরে ছিল না; বরং তিনি এখনো স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করতে চান, তাহলে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব কি…’
— ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
১. প্রাণনাশ বা অঙ্গহানির হুমকি: স্বামীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রাণনাশের কিংবা শরীরের কোনো অঙ্গহানির আশঙ্কা তৈরি করে জোরপূর্বক তালাকনামায় স্বাক্ষর করানো হলে, এ ধরনের জবরদস্তির কারণে তালাক কার্যকর হবে না।
আরও পড়ুন
আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা
২. সাধারণ পারিবারিক বা মানসিক চাপ: বাবা-মায়ের রাগারাগি, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের চাপ কিংবা পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে স্বামী অনিচ্ছা সত্ত্বেও তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে তা সাধারণ পারিবারিক চাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
মূল বিষয়গুলি
- বিয়ে মহান আল্লাহ তাআলার বিশেষ নেয়ামত।
- এক প্রশ্নকারী জানতে চান, স্বামী যদি অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাবা-মা কিংবা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের চাপে তালাকনামায় স্বাক্ষর করেন, অথচ তালাক দেওয়ার কোনো নিয়ত তাঁর আগে বা পরে…
- জবাবে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের বলেন, ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে জবরদস্তি বা চাপের ধরন ভিন্ন হতে পারে।
- এ ধরনের চাপকে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে মাফযোগ্য জবরদস্তি হিসেবে গণ্য করা হয় না।
এ ধরনের চাপকে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে মাফযোগ্য জবরদস্তি হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফলে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের পুরুষ এ ধরনের চাপের মুখে তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তালাক কার্যকর হয়ে যায়। তবে বাবা-মা যদি তাঁকে আটকে রেখে বা অবরুদ্ধ করে তালাকনামায় স্বাক্ষর করান, তাহলে তালাক কার্যকর হবে না।
প্রকাশ থাকে যে, শরয়ি কোনো কারণ ছাড়া কেবল ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে পিতা-মাতার ছেলেকে তালাক দিতে বাধ্য করা উচিত নয়। বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যখন একসঙ্গে সংসার করতে সম্মত ও সন্তুষ্ট, তখন এ ধরনের পরিস্থিতিতে তালাক দেওয়া বৈধ নয়।
এ ক্ষেত্রে উভয় পরিবারের মুরব্বিদের উচিত পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। কোনো দোষ ছাড়াই স্ত্রীকে তালাক দেওয়া একধরনের জুলুম ও অন্যায়। ইসলাম কোনো অবস্থাতেই জুলুমকে সমর্থন করে না।
ফতোয়ার সূত্র:
আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, ১/৩৭৯
বাদায়েউস সানায়ে, ৭/১৭৫
আদ-দুররুল মুখতার, ৬/১২৯






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।