১০ই অক্টোবর, শনিবার, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে আশ্বিন, শরৎকাল, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৯শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
ডিএসই শেয়ারবাজার
DSEX: ৫,৪০২.৬৯ -১০.৩৫ | DS30: ২,০৫৮.৩৭ -১০.২৬ | লেনদেন: ৫,৫৮৮.০৫ কোটি টাকা | স্বর্ণের দর: ২,২৯,০৮১ টাকা | ইউএস ডলার: ১২০.৫০ +০.১৫ | DSEX: ৫,৪০২.৬৯ -১০.৩৫
সারাদেশ

১০ ফুট দূরত্বে মাজার-মন্দির, সম্প্রীতির বন্ধন যুগ যুগ

১০ ফুট দূরত্বে মাজার-মন্দির, সম্প্রীতির বন্ধন যুগ যুগ
বগুড়ার ফতেহ আলী বাজার এলাকায় পাশাপাশি অবস্থিত মাজার ও কালীমাতা মন্দির সংগৃহীত

মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ১০ ফুট। এক পাশে সুফি সাধক শাহ ফতেহ আলী (রহ.)-এর মাজার ও মসজিদ, অন্য পাশে মা আনন্দময়ী কালীমাতা মন্দির। একদিকে নামাজ, জিকির ও ধর্মীয় আচার; অন্যদিকে পূজা-অর্চনা। উপাসনার ধরন আলাদা হলেও দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি চলছে দুই ধর্মের মানুষের প্রার্থনা। বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজার এলাকার এই দুই উপাসনালয় স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় সহাবস্থানের পরিচিত উদাহরণ।

বিশেষ করে কালীপূজার সময় এ এলাকার চিত্র হয়ে ওঠে আরও বর্ণিল। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপাবলি উপলক্ষে মন্দির ও আশপাশের এলাকায় জ্বালানো হয় অসংখ্য প্রদীপ। সন্ধ্যা থেকে বাড়তে থাকে ভক্তদের আনাগোনা। মধ্যরাতে শাস্ত্রীয় বিধান মেনে অনুষ্ঠিত হয় দেবী কালীর পূজা। আয়োজন থাকে অঞ্জলি, হোম-যজ্ঞ ও মহাপ্রসাদ বিতরণের। ঢাকের বাদ্য আর ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ।

এ সময় মাজারের পাশ দিয়ে মন্দিরে আসেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মাজারে আসা মুসল্লি ও ভক্তদের সঙ্গে তাঁদের স্বাভাবিক সৌজন্য বিনিময় হয়। ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও দীর্ঘদিনের এই সহাবস্থানে নেই কোনো অস্বস্তি। বরং একে অন্যের ধর্মীয় আয়োজনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই চলেন দুই সম্প্রদায়ের মানুষ।

‘আমরা সবাই মিলেমিশে থাকতে চাই।” বগুড়া মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই দুই ধর্মের মানুষের সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।’

— জি বাংলা ডেস্ক

স্থানীয় ইতিহাস ও প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, সুফি সাধক শাহ ফতেহ আলী (রহ.) ১৬৮৩ সালে ভারতের আশকারায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মোহাম্মদ হোসেনও ছিলেন একজন সাধক। ছোটবেলায় আধ্যাত্মিক শিক্ষা অর্জনের জন্য তাঁকে ছামন্দর নামের একটি স্থানে পাঠানো হয়। সেখানে সাধক মজনু শাহর সান্নিধ্যে টানা নয় বছর সাধনা করেন তিনি।

আরও পড়ুন কুণ্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম কুণ্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সারাদেশ ৫৩ মিনিট আগে

মজনু শাহর মৃত্যুর পর ফতেহ আলী (রহ.) ১৮ বছর চীনে এবং ২১ বছর ভারতের আজমীর শরিফে ধর্মচর্চা করেন। পরে ১৭৫৮ সালে করতোয়া নদীপথে বগুড়ায় আসেন তিনি। নদীর ঘাটে আস্তানা গড়ে শুরু করেন ধর্ম প্রচার। ১৭৭৭ সালে মৃত্যুর পর ওই আস্তানাতেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। এরপর থেকে তাঁর ভক্ত-আশেকানরা মাজারের খেদমত করে আসছেন। প্রতিবছর ২২ বৈশাখ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাজারে ওরশ অনুষ্ঠিত হয়।

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে দিন

আপনার পণ্য বা সেবার প্রচারে যোগাযোগ করুন

মূল বিষয়গুলি

  • <p>মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ১০ ফুট।
  • <p>বিশেষ করে কালীপূজার সময় এ এলাকার চিত্র হয়ে ওঠে আরও বর্ণিল।
  • <p>এ সময় মাজারের পাশ দিয়ে মন্দিরে আসেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
  • <p>স্থানীয় ইতিহাস ও প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, সুফি সাধক শাহ ফতেহ আলী (রহ.) ১৬৮৩ সালে ভারতের আশকারায় জন্মগ্রহণ করেন।

অন্যদিকে, মন্দিরের সাইনবোর্ডে থাকা তথ্য অনুযায়ী, শ্রীশ্রী আনন্দময়ী মা কালীমন্দিরটি আনুমানিক ১১৫৫ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সেখানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা হয়ে আসছে। প্রতিবছর কালীপূজায় মন্দিরে বিশেষ আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে মন্দিরটি দীর্ঘদিনের পরিচিত উপাসনালয়।

মন্দিরে আসা এক ভক্ত বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই মন্দির দেখে আসছি। মাজারটিও আমাদের খুব পরিচিত। কখনো মনে হয়নি, পাশাপাশি দুটি ধর্মের উপাসনালয় থাকায় কোনো সমস্যা হতে পারে। আমরা যে যার ধর্ম পালন করি, একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা রাখি।”

আরেক ভক্ত বলেন, “এখানে পূজা দিতে এলে মাজারের পাশ দিয়েই আসতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি আছে। এলাকার মানুষও বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেন। এটাই আমাদের কাছে ভালো লাগার বিষয়।”

মন্দিরের পুরোহিত রাজেন্দ্রলাল সান্যাল বলেন, “আমি ৫২ বছর ধরে এখানে পূজা করছি। এত বছর ধরে দুই ধর্মের মানুষকে পাশাপাশি দেখছি। এখানে সবাই মিলেমিশে থাকেন। একে অন্যের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধা দেখান। এই পরিবেশ দেখে আমারও ভালো লাগে।”

মাজারের খাদেম ফিরোজ আহমেদ বলেন, “এটি হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতির বন্ধন। পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মতো করে চলছে। কারও ধর্মীয় কাজে কেউ বাধা দেন না। আমরা সবাই মিলেমিশে থাকতে চাই।”

বগুড়া মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই দুই ধর্মের মানুষের সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে। পূজা ও ওরশের সময় দুই সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সহযোগিতা নজির স্থাপন করেছে।

সারাদেশ থেকে আরও

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ৭ কারখানায় ছুটি বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ৭ কারখানায় ছুটিবেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে আবারও বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এ সময় কয়েকটি কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন… ৪ ঘণ্টা আগে মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় নারীসহ ৯ জন উদ্ধার মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় নারীসহ ৯ জন উদ্ধারকক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ৯ জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ… ৬ ঘণ্টা আগে শ্রমিক আন্দোলনে পোশাকশিল্পে উৎপাদন ব্যাহত, ক্রয়াদেশ কমার আশঙ্কা শ্রমিক আন্দোলনে পোশাকশিল্পে উৎপাদন ব্যাহত, ক্রয়াদেশ কমার আশঙ্কান্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় টানা তিন দিনের শ্রমিক আন্দোলন ও সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পোশাকশিল্পে।… ৬ ঘণ্টা আগে ফরিদপুরে মক্তবে শিশুকে যৌন নিপীড়ন, সাত বছরের কারাদণ্ড ইমামের ফরিদপুরে মক্তবে শিশুকে যৌন নিপীড়ন, সাত বছরের কারাদণ্ড ইমামেরফরিদপুরের নগরকান্দায় এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় আরিফুল ইসলাম (২৪) নামে এক খণ্ডকালীন ইমাম ও মক্তব শিক্ষককে সাত বছরের সশ্রম… ৬ ঘণ্টা আগে

মন্তব্য (৩)

  • রা
    রাহাত মিয়া২ ঘণ্টা আগে

    ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।

  • সু
    সুমাইয়া আক্তার৫ ঘণ্টা আগে

    দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।

  • তা
    তানভীর হোসেন৮ ঘণ্টা আগে

    সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

বঞ্চনামূলক বা ঘৃণ্য ভাষা ব্যবহার করে মন্তব্য দিলে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।
সংবাদ সংক্ষেপে

১০ ফুট দূরত্বে মাজার-মন্দির, সম্প্রীতির বন্ধন যুগ যুগ

৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ পিএম · সারাদেশ

<p>মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ১০ ফুট। এক পাশে সুফি সাধক শাহ ফতেহ আলী (রহ.)-এর মাজার ও মসজিদ, অন্য পাশে মা আনন্দময়ী কালীমাতা মন্দির। একদিকে নামাজ, জিকির ও ধর্মীয় আচার; অন্যদিকে পূজা-অর্চনা। উপাসনার ধরন আলাদা হলেও দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি চলছে দুই ধর্মের মানুষের প্রার্থনা। বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজার এলাকার এই দুই উপাসনালয়।

ফটোকার্ড

১০ ফুট দূরত্বে মাজার-মন্দির, সম্প্রীতির বন্ধন যুগ যুগ

১০ ফুট দূরত্বে মাজার-মন্দির
সম্প্রীতির বন্ধন যুগ যুগ

১০ ফুট দূরত্বে মাজার-মন্দির
সম্প্রীতির বন্ধন যুগ যুগ

শিরোনাম